পরকীয়া নয়, বর্তমানে সম্পর্ক ভাঙার নেপথ্যে নতুন শত্রু! জানাচ্ছে সমীক্ষা

সিনেমা/বিনোদন/থিয়েটার
Spread the love


দুজন মানুষের সম্পর্কে সব কিছু ঠিকঠাক ছিল (Trendy Relationships)। আচমকাই ঝগড়া-বিবাদ, মনোমালিন্য আর তা থেকে দূরত্ব। কারণ, পরকীয়া। যে কোনও দম্পতিকেই জিগ্যেস করলে হয়তো জানা যাবে, পরকীয়াকেই সম্পর্ক ভাঙার ক্ষেত্রে সবথেকে বড় সমস্যা বলে মনে করেন তাঁরা।

কিন্তু অদ্ভুতভাবেই এই ছবি পালটাচ্ছে বর্তমানে। প্রেম রয়েছে, বন্ধুত্ব রয়েছে, পরকীয়ার প্রশ্নই নেই। তবুও ভেঙে পড়ছে তাসের ঘর। নেপথ্যে এক নতুন শত্রু! সময়ের অভাব। শুনতে খেলো মনে হলেও একরত্তি ভুল নেই এই দাবিতে। আজকের ব্যস্ত জীবনে সত্যিই বিশালাকার ধারণ করে দাঁড়িয়েছে এই সমস্যা। অফিসের ডেডলাইন, বাড়ি ফিরেও কাজের চাপ, অফিস যেতে আসতেই হয়তো আরও খানিক সময় চলে যাচ্ছে। তাছাড়া বর্তমানে বেশিরভাগ দম্পতির মধ্যে দুজনেই হয়তো কর্মরত। টাইট স্কেডিউলের ঝামেলা পোয়াতে হয় দুজনকেই।

আরও পড়ুন:

Is Lack of Time the Biggest Threat to Modern Relationships?

এরপর যেটুকু সময় পাওয়া যায়, তাতে চেপে বসেছে রিলের নেশা! ফলে এক ঘরে, এক বিছানায় বসেও পরস্পরের সঙ্গে কথা না বললে হয়তো দীর্ঘ সময় ফোন ঘেঁটে চলেছেন দুজনেই। তারপর ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ছেন এক সময়। আর এ সবের মাঝে পাকাপাকি ছুটি হয়ে যাচ্ছে ভালোবাসার।

এর উপর সামাজিক ও পারিবারিক দায়িত্ব পালনের চাপ তো রয়েছেই। হয়তো স্বামী-স্ত্রীর কাজের অফ ডে মিলছে না। মিলে গেলেও দুজনেই এত ক্লান্ত থাকছেন যে আলাদা করে আর পরস্পরকে সময় দেওয়ার মতো সময়ই পাচ্ছেন না কেউ। ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যাচ্ছে এক সময়ের একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া, পছন্দের খাবার খাওয়ার দিনগুলো।

গ্লিডেন ও IPSOS-এর একটি নতুন সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই এক পরিসংখ্যান। সমীক্ষা অনুযায়ী, ৩৩ শতাংশ ভারতীয় জানিয়েছেন, কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্যের অভাব এবং একসঙ্গে কোয়ালিটি টাইম কাটাতে না পারাই তাঁদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সমস্যা। এই সমস্যাকে বলা হচ্ছে ‘টাইম পোভার্টি’ বা সময়ের দারিদ্র্য।

কেবলমাত্র পরস্পরকে একান্তে না পাওয়ার ফলে এক সময় সমস্ত আগ্রহ হারিয়ে ফেলে দুটো মানুষ। এক সময় এমনই ভয়াবহ আকার ধারণ করে এই দূরত্ব যে চেয়েও আর ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগানো যায় না।

Is Lack of Time the Biggest Threat to Modern Relationships?

এর সমাধান করতে বড়সড় রোম্যান্টিক আয়োজনের দরকার নেই। প্রতিদিনের বাঁধাধরা সময় থেকেই কিছুটা রাখতে হবে নিজেদের জন্য। এক ঘণ্টার জন্য ফোন দূরে রাখুন, একবেলার খাবার অন্তত একসঙ্গে খান। সারাদিনের কাজের মাঝে টুকটাক কথা মেসেজেই বলুন একে অপরকে, যেমন প্রেমের দিনগুলোয় করতেন। রাতে যে সময় একা একা ফোন স্ক্রোল করেন, সে সময়টুকু একসঙ্গে কোনও সিরিজ দেখুন। সারাদিনের ক্লান্তির পর ঘরের কাজের গুরুভার কোনও একজনের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে দুজনেই হাতে হাতে সেরে ফেলুন। এতে নতুন করে একে অন্যকে চেনার সুযোগ পাবেন, সম্পর্কটিও বেঁচে উঠবে নতুন করে।

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *