বারাবনি ও আসানসোল: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার মামলায় বড়সড়ো সাফল্য পেল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। দীর্ঘদিনের আত্মগোপন পর্ব শেষে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন (TMC chief arrested) বারাবনি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি অসিত সিং, তাঁর ভাই তথা পানুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান বিশ্বজিৎ সিং এবং প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা আকবর আলম। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুলিশি অভিযানের মাধ্যমে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের একটি দল কুলটি থানার ডুবুরডিহি চেকপোস্টের কাছ থেকে অসিত ও বিশ্বজিৎকে গ্রেপ্তার করে। অন্যদিকে, অন্য এক অভিযুক্ত আকবর আলমকে ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর থেকে আটক করার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়। এরপরই পুলিশের জালে ধরা পড়েন তিনি। অশান্তি এড়াতে ধৃতদের বারাবনি থানায় না রেখে হিরাপুর থানায় রাখা হয়। শুক্রবার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাঁদের আসানসোল আদালতে তোলা হয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ধৃতদের নিজেদের হেপাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই বারাবনি (Barabani) এলাকায় ব্যাপক ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় নাম জড়ানোর পর থেকেই অভিযুক্তরা পলাতক ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় স্তরে তাঁদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি হচ্ছিল। অবশেষে এই গ্রেপ্তারি তদন্তে নতুন গতি আনল বলে মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। পুলিশের দাবি, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত আরও বেশ কয়েকজন অভিযুক্তের খোঁজ চলছে এবং শীঘ্রই তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।
গ্রেপ্তারের খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়তেই বারাবনির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায়। বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গিয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতা অভিজিৎ রায় এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছিলাম।”
তবে এই গ্রেপ্তারি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কিংবা ধৃতদের তরফে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় বারাবনি ও আসানসোলের (Asansol) রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। পরবর্তী সময়ে তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয় এবং পলাতক অভিযুক্তরা পুলিশের জালে ধরা দেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে সাধারণ মানুষের।

