উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (NCRT)-এর নতুন পাঠ্যবই ঘিরে তৈরি হলো রাজনৈতিক বিতর্ক। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম শ্রেণির (9 Textbook) সমাজবিজ্ঞানের বইয়ে সংবিধানের প্রস্তাবনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে প্রস্তাবনাভুক্ত ‘সার্বভৌম’, ‘সমাজতান্ত্রিক’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষ’-র মতো শব্দগুলো নতুন পাঠ্যবইয়ে স্থান পায়নি।
পূর্বে নবম শ্রেণির ‘গণতান্ত্রিক রাজনীতি ১’ অধ্যায়ে সংবিধানের প্রস্তাবনাকে দার্শনিক ভিত্তির নথি হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হতো। সেখানে ধর্মনিরপেক্ষতার ব্যাখ্যায় রাষ্ট্রের কোনো সরকারি ধর্মহীনতা ও সকল ধর্মের সমমর্যাদার কথা উল্লেখ থাকত। কিন্তু নতুন বইয়ে এই বিষয়গুলো বাদ পড়ার পাশাপাশি জরুরি অবস্থার ইতিহাস নিয়ে একটি বিশেষ অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে।
বইটির নাম রাখা হয়েছে ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং সোসাইটি: ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড’। নতুন বইটিতে ১৯৪৬ সালে গণপরিষদ গঠন ও সংবিধানের খসড়া তৈরির ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। সংবিধানকে এখানে ‘শক্তিশালী, নমনীয় এবং পরিবর্তনশীল’ নথি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। নাগরিক স্বাধীনতা, সমতা ও ধর্মচর্চার অধিকার নিয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে জরুরি অবস্থার অন্তর্ভুক্তিকরণকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে তরজা।
এই সিদ্ধান্তের সমর্থনে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Schooling Minister Dharmendra Pradhan) জানিয়েছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জরুরি অবস্থার সেই ‘অশুভ কর্মকাণ্ড’ সম্পর্কে জানা জরুরি। অন্যদিকে, এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা শচীন পাইলট (Sachin Pailot)। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বিজেপি সরকার পাঠ্যবই, ইতিহাস ও সাহিত্যকে নিজেদের রাজনৈতিক আদর্শের নিরিখে পুনর্বিন্যাস করার চেষ্টা করছে।
মূলত ইতিহাস, ভূগোল ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলাদা বইয়ের পরিবর্তে এনসিইআরটি এই সমন্বিত সমাজবিজ্ঞানের বইটি আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা নতুন আঙ্গিকের পাঠ্যবই পেতে চলেছে, যা ইতিমধ্যেই শিক্ষা মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

