উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দলীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (TMC checking account freeze case) করার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও প্রথমদিনে কোনো অন্তর্বর্তী সুরাহা পেল না কালীঘাট তৃণমূল। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে দলের অ্যাকাউন্টগুলি থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার আর্জি খারিজ হয়ে যায়। আগামী মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে ইডি এবং তৃণমূল (TMC)— উভয় পক্ষের বক্তব্যই বিস্তারিতভাবে শুনবে শীর্ষ আদালত। ফলে আপাতত দলের আর্থিক লেনদেন নিয়ে অনিশ্চয়তা বহাল রইল।
এদিন সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করেন বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিব্বল ও মেনকা গুরুস্বামী। আদালতে তাঁরা দাবি করেন, দলের সমস্ত অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়ার ফলে প্রতিদিনের কাজকর্ম চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি প্রায় ২১৫ জন কর্মীর বকেয়া বেতনও মেটানো যাচ্ছে না। অন্যদিকে, কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু এই দাবি জোরালোভাবে খণ্ডন করে জানান যে, দলের কাছে বর্তমানে অন্তত ১৬৪ কোটি টাকা রয়েছে। দুই পক্ষের সওয়াল শোনার পর বিচারপতি এমএম সুন্দরেশের বেঞ্চ জানায়, আগামী মঙ্গলবার এই বিষয়ে চূড়ান্ত শুনানি হবে। একইসঙ্গে নিত্যদিনের খরচ চালানোর জন্য কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত বিশেষ প্রশাসকের হাতে কিছু তহবিল তুলে দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়েও মতামত চেয়েছে আদালত।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED) তৃণমূলের মোট তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে, যেগুলিতে সবমিলিয়ে প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে। দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য ওই টাকার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলার আর্জি নিয়ে এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল শিবির। কিন্তু হাইকোর্ট ইডির পদক্ষেপে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করায় মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। তবে শীর্ষ আদালতেও আপাতত কোনো স্বস্তি মিলল না।
এর আগে পুলিশের নির্দেশে বন্ধ হওয়া অন্য কিছু অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট কিছু শর্তসাপেক্ষে টাকা তোলার অনুমতি দিলেও ইডির ফ্রিজ করা অ্যাকাউন্টগুলির ক্ষেত্রে সেই সুরাহা মেলেনি। আদালতের নিযুক্ত বিশেষ আধিকারিকের নজরদারিতে কিছু নির্দিষ্ট খরচ চালানোর অনুমতি দেওয়া হলেও, ইডির কড়া নজরদারিতে থাকা প্রধান অ্যাকাউন্টগুলি নিয়ে জট কাটেনি। এখন মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী আদেশের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজনৈতিক মহল।

