উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ঈশ্বর কি সত্যিই আছেন? নাকি তিনি মানুষের কল্পনা? শনিবার দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে এই চিরন্তন প্রশ্ন নিয়ে মুখোমুখি হয়েছিলেন প্রখ্যাত গীতিকার ও যুক্তিবাদী জাভেদ আখতার এবং প্রথিতযশা ইসলামি পণ্ডিত মুফতি শামাইল নদভী। ‘দ্য লল্লানটপ’-এর সম্পাদক সৌরভ দ্বিবেদীর সঞ্চালনায় প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই বিতর্ক এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার কেন্দ্রে।
জাভেদ আখতারের তির্যক প্রশ্ন, “গাজায় যখন শিশু মারা যায়, ঈশ্বর কোথায় থাকেন?” নিজের নাস্তিক্যবাদী অবস্থানে অনড় থেকে জাভেদ আখতার মানবিক যন্ত্রণা এবং যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি সরাসরি গাজা যুদ্ধের উদাহরণ দিয়ে বলেন, “যদি ঈশ্বর সর্বশক্তিমান এবং সর্বত্র বিরাজমান হন, তবে তিনি গাজায় শিশুদের টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া দেখছেন না কেন? এমন ঈশ্বরকে আমি কেন বিশ্বাস করব?”
কথা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তুলনা টেনে তিনি কৌতুক করে বলেন, “এর চেয়ে তো আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভালো, অন্তত তিনি আমাদের কিছুটা খেয়াল রাখেন।” ধর্ম ও ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে চলা সহিংসতার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
মুফতি শামাইল নদভীর পাল্টা যুক্তি: “সৃষ্টিকর্তা মন্দ নন, মন্দ মানুষের কর্ম”
মুফতি শামাইল নদভী জাভেদ আখতারের যুক্তি খণ্ডন করে বলেন, ‘মহাবিশ্বে অশুভ বা মন্দের অস্তিত্বের জন্য মানুষই দায়ী। তিনি বলেন, ‘ঈশ্বর অশুভ সৃষ্টি করেছেন ঠিকই, কিন্তু তিনি নিজে অশুভ নন। মানুষ তার স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি (Free Will) ভুলভাবে ব্যবহার করে বলেই ধর্ষণ বা হত্যার মতো ঘটনা ঘটে।’ মুফতি আরও বলেন, ‘বিজ্ঞান কেবল বস্তুগত জগৎ নিয়ে কাজ করে, কিন্তু ঈশ্বরের অস্তিত্ব বিজ্ঞানের সীমানার বাইরে। আপনার জানা নেই মানেই এই নয় যে ঈশ্বরের অস্তিত্ব নেই।’ সরাসরি জাভেদ আখতারকে বিঁধে বলেন এই ধর্মতাত্ত্বিক।
অজ্ঞানতা বনাম ধ্রুব সত্যঃ
বিতর্কের শেষে জাভেদ আখতার জানান, কোনও বিজ্ঞানী বা দার্শনিকই সবজান্তা হওয়ার দাবি করেন না। তার মতে, ধ্রুব সত্যের দাবি না করে নিজের সীমাবদ্ধতা বা ‘অজ্ঞানতা’ স্বীকার করাই শ্রেয়। অন্যদিকে, মুফতি নদভীর যুক্তি ছিল, বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলি কেবল মহাবিশ্ব কীভাবে চলে তা বোঝায়, কিন্তু কেন এই মহাবিশ্ব তৈরি হয়েছে তার উত্তর কেবল বিশ্বাসের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব।
