কলকাতা: অঙ্কটা নেহাত কম নয়। অন্তত ৫০০-৭০০ কোটি। হিসেবের বাইরে আরও কয়েকশো কোটি থাকলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই কোটি কোটি টাকার ভবিষ্যৎ কী?
কথা হচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) নিয়ে। সর্বভারতীয় প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) দলে যা চলছে, সেটাকে নাটক না বলে অপেরা বলাই শ্রেয়। বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের নিয়ে ‘বহিষ্কৃত’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী দলনেতা নির্বাচন এবং সংসদীয় রাজনীতিতেও ভাঙনের আভাসে তৃণমূল দলটাই প্রায় উঠে যাওয়ার জোগাড়। কাল কী হবে তা বলা খুব শক্ত, যেমন বলা শক্ত জোড়াফুল প্রতীকের ভবিষ্যৎ কী। ঋতব্রতরা কি এরপর তাহলে নিজেদেরই ‘আসল’ তৃণমূল বলে দাবি করবেন? এমন জল্পনাকল্পনার মাঝে সবথেকে বেশি চর্চায় তৃণমূলের বিপুল কোষাগার।
চাঁদা, অনুদান এমনকি নির্বাচনি বন্ডের মাধ্যমেও বিপুল টাকা জমেছে তৃণমূলের তহবিলে। নির্বাচন কমিশনকে তৃণমূল গত ৫ বছরে আয়ের যে হিসেব দিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে দলের মোট আয় ছিল ২১৯.৩৫ কোটি টাকা। ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে মোট আয় ছিল ৬৪৬.৩৯ কোটি টাকা। ২০২২-’২৩ অর্থবর্ষে মোট আয় ছিল ৩৩৩.৪৫ কোটি টাকা। ২০২১-’২২ অর্থবর্ষে মোট আয় ছিল ৫৪৫.৭৪ কোটি টাকা। ২০২০-’২১ অর্থবর্ষে মোট আয় ছিল ১৩২.৫৩ কোটি টাকা। অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মসের (এডিআর) তথ্য বলছে, নির্বাচনি বন্ডের মাধ্যমে দেশজুড়ে বিজেপির পর সবথেকে বেশি লাভবান হয়েছিল তৃণমূল। তারা পেয়েছিল ১৫৯২.৫২ কোটি টাকা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচনি বন্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে বিভিন্ন ইলেক্টোরাল ট্রাস্টের মাধ্যমে ১৮৪.৫ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছিল তৃণমূল। ওই আর্থিক বছরেই সমস্ত আঞ্চলিক দলের মধ্যে সবথেকে বেশি অনুদানও পেয়েছিল তৃণমূল। ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষের নির্বাচনি অনুদান এবং চাঁদার রিটার্ন এখনও দল ফাইল করেনি।
সদ্যই শেষ হয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। এবারও ভোটের আগে দলের কোষাগারে প্রচুর অর্থ ঢুকেছিল বলে দাবি করছেন শীর্ষস্থানীয় এক নেতা। ভোটের বাজারে খরচও হয়েছে প্রচুর। সেই তারপরও ৫০০-৭০০ কোটি টাকা এই মুহূর্তে কোষাগারে আছে বলে দাবি। অঙ্কটা বেশি বই কম হবে না।
বন্ডের মাধ্যমে তৃণমূলের তহবিলের ভরিয়ে দিয়েছিল বেশকিছু সংস্থা। তারমধ্যে ফিউচার গেমিং অ্যান্ড হোটেল সার্ভিসেস একাই দিয়েছিল ৫৪২ কোটি টাকা। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে হলদিয়া এনার্জি লিমিটেড ২৮১ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিল মমতার দলকে। এর বাইরে আরও প্রায় আটটি সংস্থা মোটা অঙ্কের বন্ড দিয়েছিল।
দলের সর্বশেষ ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটির তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ছিলেন তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ। কিন্তু ঋতব্রত কাণ্ডের পর বর্তমানে দলের সমস্ত কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ফলে কোষাগারে হাত দেওয়ার অধিকার কার, তা নিয়ে দলের অন্দরেই সংশয়। কিন্তু বিদ্রোহের জল যেভাবে দ্রুত গড়াচ্ছে, তাতে কাল কী হবে কেউ নিশ্চিত নন। যদি জোড়াফুল প্রতীকটা নিয়েই টানাটানি হয়, তাহলে কি আর মমতার হাতে থাকবে কোষাগারের অধিকার, চর্চা চলছেই।
দলের এক মুখপাত্র অবশ্য বলছেন, ‘দলের সমস্ত কমিটি এই মুহূর্তে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ফলে বর্তমান কোষাধ্যক্ষ কে সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে নতুন গোষ্ঠী চাইলেও এই তহবিলে হাত দিতে পারবে না। বুধবার যে কায়দায় বিরোধী দলনেতা বেছে নেওয়া হয়েছে তার বৈধতা নিয়ে আমরা আগেই প্রশ্ন তুলেছি। দলের সংবিধান খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে।’
