উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলার নির্বাচনী (West Bengal Election 2026) রণক্ষেত্রে এবার প্রবেশ করল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) বিতর্ক। উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অফিসার তথা ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার একটি কথিত ‘বিকৃত’ ভিডিও শেয়ার করে আইনি জটিলতায় জড়ালেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লির মন্দির মার্গ সাইবার পুলিশ স্টেশনে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার মূলে রয়েছে একটি ভিডিও (ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ), যেখানে এক ব্যক্তিকে নাইটক্লাবে নাচতে দেখা যাচ্ছে। মহুয়া মৈত্র তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করেন, ওই ব্যক্তিটি স্বয়ং অজয় পাল শর্মা। আইপিএস অফিসারকে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন তাঁর নৈতিকতা নিয়ে। এরপরই প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। পুলিশে জমা পড়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃত করা হয়েছে শুধুমাত্র একজন কর্তব্যরত অফিসারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য।
অজয় পাল শর্মা উত্তরপ্রদেশের ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে তিনি বাংলায় নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক। ফলতায় তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানকে তাঁর হুঁশিয়ারি দেওয়ার ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরই মহুয়ার এই পোস্ট সামনে আসে। বিজেপির দাবি, “ইউপি-র সিংহম”-কে ভয় পেয়েই তৃণমূল এখন ব্যক্তিগত কুৎসা এবং ডিপফেক ভিডিওর আশ্রয় নিচ্ছে।
পাল্টা সুর চড়িয়েছে ঘাসফুল শিবিরও। তৃণমূলের দাবি, পর্যবেক্ষক হিসেবে অজয় পাল শর্মা অসাংবিধানিক অতি-সক্রিয়তা দেখাচ্ছেন। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টি প্রধান অখিলেশ যাদবও এই বিতর্কে ঘৃতাহুতি দিয়েছেন। তিনি এই আইপিএস অফিসারকে “বিজেপির এজেন্ট” বলে তোপ দেগেছেন এবং উত্তরপ্রদেশের অফিসারদের বাংলায় পাঠিয়ে ভোট প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওটি ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের নির্বাচনে এআই বা ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির মাধ্যমে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার যে আশঙ্কা ছিল, মহুয়া বনাম অজয় পাল শর্মা বিতর্ক তারই বড় প্রমাণ। ভিডিওটি যদি সত্যিই এআই-জেনারেটেড হয়, তবে সাংসদ মহুয়া মৈত্রের আইনি বিপদ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
