নাগরাকাটা: উৎসবের মরশুমের আগে উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের (Tea Staff) জন্য বড় স্বস্তির খবর। চলতি বছরেও রাজ্যের সমস্ত চা বাগানে একযোগ কুড়ি শতাংশ হারে বোনাস (Tea Backyard Bonus) দেওয়ার নির্দেশিকা জারি করল শ্রম দপ্তর। সোমবার অতিরিক্ত শ্রম কমিশনার অমল মজুমদারের স্বাক্ষরিত এই অ্যাডভাইজারি ইতিমধ্যেই সমস্ত চা বণিকসভার হাতে পৌঁছে গিয়েছে। আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে শ্রমিকদের বোনাস মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের মতো এবারও একতরফাভাবে এই অ্যাডভাইজারি জারি হওয়ায় মালিকপক্ষের নির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের গুরুত্ব কার্যত ফুরিয়েছে। ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশন (ITA), আইটিপিএ এবং টিপা-র মতো চা বণিকসভাগুলি সরকারি নির্দেশিকা হাতে পাওয়ার পর নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করেছে। তবে মালিকপক্ষের একাংশের অন্দরে গুঞ্জন, কিছু রুগ্ন বা সংকটে থাকা বাগানের পক্ষে একলপ্তে এই ২০ শতাংশ বোনাস মেটানো কঠিন হতে পারে। উল্লেখ্য, বিগত বছরগুলিতেও কিছু বাগান নির্দিষ্ট সময়ে পুরো টাকা মেটাতে না পারায় স্থানীয় স্তরে কিস্তিতে বোনাসের চুক্তি করতে হয়েছিল।
অন্য দিকে, শ্রম দপ্তরের এই সিদ্ধান্তকে একযোগে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। ভারতীয় টি ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের (বিটিডব্লিউইউ) চেয়ারম্যান তথা সাংসদ মনোজ টিগ্গা সরকারের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। একই সুর শোনা গেছে তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়ন, কংগ্রেসের এনইউপিডব্লিউ এবং জয়েন্ট ফোরামের গলায়। তবে জয়েন্ট ফোরামের পক্ষ থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই বোনাস মিটিয়ে দেওয়ার দাবি তুলে গেট মিটিংয়ের ডাক দেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের অনুমান, এই বোনাস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের চা বলয়ের বাজারে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা প্রবাহিত হবে। সব মিলিয়ে ছোট-বড় সমস্ত বাগানের হিসেব ধরলে এই অঙ্ক ৭০০ কোটি টাকা ছাড়াতে পারে। এখন দেখার, রুগ্ন বাগানগুলিতে বোনাস নিয়ে তৈরি হওয়া সম্ভাব্য জটিলতা সরকার কীভাবে মোকাবিলা করে।

