এবং আমরা, স্রেফ নতমুখ…
শঙ্খ চট্টোপাধ্যায়
ভাবছি তোমায় লেখার মতো কী বাঁচিয়ে
রেখেছি এই হাট্টিমাটিম দেশে!
শুকনো কাঠের মতো কিছু বিশেষণে ছিবড়ে করা
ভালোবাসার কয়েকটা হাড় ছড়িয়ে আছে, বুকের
মধ্যে শ্মশান-শ্মশান, আর কুয়াশায়
তোমার আঁচল যাচ্ছে উড়ে…
গোলাপ হাতে দৌড়ে গেলাম
ছিঁড়তে ছিঁড়তে সময়-শেকল
নিজেই নিজের ভেতর কেমন
ছিন্ন হলাম, ত্র্যস্ত হলাম…
আজকে সারা গায়ত্রীচক বৃষ্টিশেষের বাজার,
মাংসদোকান, দোকানি স্রেফ
চওড়া দরে খিদের স্বর্গ সওদা ক’রে
এবং তুমি স্রেফ নতমুখ
এবং আমি স্রেফ নতমুখ, আলোয় গাঁথা অন্ধকারে…
নতুন নকশা
মৌ চট্টোপাধ্যায়
অপ্রেমের সংসারে নিরুদ্দেশের
প্রেম খুঁজতে গিয়ে, হাতে এলো
কিছু সবুজ কাচের চুড়ি।
কোনও মেলায় তারা পড়েছিল রাস্তায়
পসার জমানোর ভিড়ে…
ঠোঙায় ছিল মুঠো বাদাম,
কিংবা এক ঝুড়ি গপ্পো।
মাথাভর্তি রঙিন কাগজ উড়ছিল,
আলো-ছায়ার উড়ো খবর নিয়ে।
হাতের পিঠে হাত আর
ভরসার আঁচে শিউরে ওঠে না।
আচমকা ঘুম ভেঙে যায় তোমার টেলিফোনে।
ওপারে বন্যা, ভূমিকম্প আর খবর
পড়ছিল এক যান্ত্রিক সভ্যতা।
তবু আমি নিজে হাতে আঁকছিলাম
নতুন পরিকল্পনার নকশা।
আস্তাকুঁড়ে
হিমেশ গোস্বামী
দিশাহারা নাবিকের মতো
জীবন উত্তাল স্রোতে
বারুদের গন্ধে রক্তাক্ত আলপনা সবুজ ঘাসে
মাতৃক্রোড়ে শিশুর আর্তনাদে
নেমে আসে অন্ধকার
রাতের শূন্যতায় এলোমেলো ভাবনায়
হৃদপিণ্ডের সব অনুভূতি দলা টাকায়
ধর্ষিতার ছেঁড়া বস্ত্রের ভাঁজে
স্বপ্ন চোখ আস্তাকুঁড়ে।
ফেলে আসা শহরে
সমাদৃত দাস
শরতের বিকেলে আর কাশফুল ফোটে না
কাচের চুড়ির শব্দে জাহ্নবী ফিরে আসে না
ভেজা কাঠের কান্নায় গ্রাম হারিয়ে ফেলে
একটা কিশোর পিওন
কিন্তু সেই কিশোর পিওন এপিটাফ জানে না
সে আলুক্ষেতে ভ্রূণের কান্না খুঁজতে থাকে
কান্নায় লেগে থাকে না শব্দহীন বিরহ
একটা নৈঃশব্দ্য ঘিরে রাখে কিশোর পিওনকে…
একদিন সমাধিস্থলে দাঁড়িয়ে কিশোর পিওন নিজেকে মৃত ঘোষণা করলো
কিন্তু ময়নাতদন্তে খুঁজে পেলো না কাশফুলের গন্ধ
একটা এঁটো বাটি পড়ে থাকলো অমাবস্যার নিকষে!
The publish কবিতা appeared first on Uttarbanga Sambad.
