উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ রাজধানী দিল্লিতে এসআইআর (SIR) ইস্যুতে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রণংদেহি মেজাজে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee Delhi Protest)। সোমবার বঙ্গভবনে ‘ক্ষতিগ্রস্ত’দের পরিজনদের দিল্লি পুলিশ কর্তৃক হেনস্থার অভিযোগে মঙ্গলবার কালো পোশাক পরে অবস্থানে বসেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেখান থেকেই তিনি সুর চড়িয়ে বলেন, “মনে রাখবেন চেয়ার পার্মানেন্ট নয়, মানুষ পার্মানেন্ট!” তাঁর অভিযোগ, বাংলার মানুষের ওপর ‘সুপার এমার্জেন্সি’ চালানো হচ্ছে।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরক অভিযোগ করে জানান, সোমবারের বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে কার্যত ‘থ্রেট’ বা হুমকি দিয়েছিলেন। পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি টেবিল চাপড়ে বলেছি ওভাবে চিৎকার করবেন না। এক ইঞ্চি জমি ছাড়ব না।” ভোটার তালিকায় কোনো রকম গোলমাল হলে যে তিনি ছেড়ে কথা বলবেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা। তাঁর দাবি, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল আরও বেশি আসনে জয়লাভ করবে।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার নামে বাংলায় গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ব্যবহার করে জীবিত মানুষকে মৃত বানিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। মমতার প্রশ্ন, “দু’বছরের কাজ কেন দু’মাসে করার তাড়াহুড়ো হচ্ছে? লজিক্যাল ডিসক্রেপান্সির নামে যোগ্য ভোটারদের কেন হয়রানি করা হচ্ছে?” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বিএলও-দের প্রাপ্য টাকা কমিশন আটকে রেখেছে।
দিল্লির বঙ্গভবন বাংলার সম্পত্তি, সেখানে দিল্লি পুলিশের তল্লাশি চালানোর অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির অপব্যবহার ও বাংলার বকেয়া টাকা আটকে রাখা নিয়ে সরব হন। মমতা বলেন, “বাঙালিদের বাংলাদেশি সন্দেহে নিপীড়ন করা হচ্ছে। অথচ সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব কেন্দ্রের।” সবশেষে রসিকতার সুরে তিনি বলেন, ২৬-এ জিতে আবার দিল্লিতে আসবেন এবং সবাইকে মিষ্টি খাওয়াবেন, তবে সেটা ‘দিল্লির লাড্ডু’ নয়।
