শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা: হাজারো তৎপরতা কিংবা বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও এখনও একশ্রেণির উৎপাদকের তৈরি চায়ে মিলছে নিষিদ্ধ বা অনুমোদিত নয় এমন কীটনাশক। ফলে উত্তরবঙ্গের চায়ের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে প্যাকেটজাত চা (Tea) বিক্রির বহুজাতিক সংস্থাগুলি। বরঞ্চ তারা ঝুঁকছে অসম বা দক্ষিণ ভারতের দিকে। টি বোর্ডের এক কর্তার কথায়, ‘এটা ঘটনা যে, এখনও মাঝেমাঝেই নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষানিরীক্ষার পর তৈরি চায়ে নিষিদ্ধ রাসায়নিকের অস্তিত্ব মিলছে। বিষয়টি নিয়ে উৎপাদকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে আমাদের প্রচেষ্টায় কোনও খামতি নেই।’
বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন উত্তরের ক্ষুদ্র চা চাষিদের সংগঠনগুলি। ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনের কাছে জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতি এব্যাপারে পদক্ষেপ করার জন্য একটি চিঠি দিয়েছে। কীটনাশক নিয়ে যে জেলা স্তরের টাস্ক ফোর্স রয়েছে তারা দ্রুত চলতি মাসেই একটি বৈঠক ডাকারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তীর কথায়, ‘ক্ষুদ্র চা চাষি, বটলিফ ফ্যাক্টরি, বড় বাগান, প্রশাসন ও টি বোর্ড সবাই মিলিতভাবে কাজ না করলে এই সমস্যা থেকে নিষ্কৃতি সম্ভব নয়। প্রয়োজন তৃণমূল স্তরে সচেতনতা বাড়ানো। সংগঠনগতভাবে নিষিদ্ধ কীটনাশকমুক্ত কাঁচা পাতা উৎপাদনকেই আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছি।’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘বহুজাতিক সংস্থাগুলি এখানকার চা থেকে যেভাবে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে তা আদৌ কোনও ভালো বিষয় নয়। ২০২৬-এ এই দুর্নাম আমাদের ঘোঁচাতেই হবে।’
এমন আবহে নিলামে চায়ের দামও চলতি ডিসেম্বরে ভালো নয়। শিলিগুড়ি চা নিলামকেন্দ্রের গত ১০ ডিসেম্বরের ৫০ নম্বর নিলামের তথ্য অনুযায়ী বড় বাগানগুলি গড়ে কিলোপ্রতি দাম পেয়েছে ১৯৪.৪৮ টাকা। যা আগের বছরের তুলনায় ৮.৯২ টাকা কম। মোট নিলামের শতকরা ৮১ শতাংশ চা বিক্রি হয়েছে কিলোপ্রতি গড়ে ১৬৬.৯৭ টাকায়। কেবলমাত্র উচ্চ গুণগতমানের চা দাম পেয়েছে ২৮০ টাকা বা তার বেশি। সেটাও মোট নিলামকৃত চায়ের মোটে ৬ শতাংশ। সাধারণ মানের মোট বিক্রিত চায়ের ৭২ শতাংশের গড় দাম ছিল ১৭৯ টাকা। অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ডুয়ার্সের উৎপাদনও কম ছিল। চা গবেষণা সংস্থার (টিআরএ) উত্তরবঙ্গ আঞ্চলিক গবেষণা ও উন্নয়নকেন্দ্রের দিনকয়েক আগের বুলেটিন অনুযায়ী ডুয়ার্সে এবছর নভেম্বরে আগেরবারের তুলনায় ৭ শতাংশ হারে উৎপাদন কমেছে।
এবিষয়ে চা বণিকসভা আইটিপিএ-র ডুয়ার্স শাখার সম্পাদক রাম অবতার শর্মা বলছেন, ‘এককথায় বলতে গেলে উৎপাদন খরচের থেকেও কম দামে চা বিক্রি হচ্ছে। ফলে বাগানগুলির ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন তো থাকছেই। এদিকে উৎপাদিত চায়ের নমুনা পরীক্ষার জন্য উত্তরবঙ্গে দুটি ল্যাবরেটরি তৈরি করার কথা জানিয়েছিল শ্রম দপ্তর। বছর ঘুরতে চললেও সেই কাজ এখনও শুরু হয়নি।’
সংশ্লিষ্ট মহল জানাচ্ছে, ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার (এফএসএসএআই) গাইডলাইন অনুযায়ী চা শিল্পে ২০টি কীটনাশকের ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবুও ওই ধরনের একাধিক কীটনাশকের অবশেষ তৈরি চায়ের নমুনায় টি বোর্ড পাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম মনোকটোফোস। যে সমস্ত দোকান থেকে ওই কীটনাশক বিক্রি হচ্ছে সেগুলির ওপরও কড়া পদক্ষেপের দাবিতে সরব হয়েছেন অনেকে। বিজয়গোপালের বক্তব্য, ‘অসম কিন্তু এব্যাপারে অনেকটাই সফল।
