উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : দিল্লিতে আয়োজিত চলা ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রিত হলেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সেখানে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। তবে এই সম্মেলনে তাঁর অনুপস্থিতি মানে এই নয় যে নয়াদিল্লিকে এড়িয়ে চলতে চাইছে ঢাকা। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, যত দ্রুত সম্ভব দ্বিপাক্ষিক সফরে ভারতে আসার বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তারেক। চলতি বছরের নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বরের শুরুর দিকে দিল্লি সফরে আসতে পারেন তিনি।
আগামী ডিসেম্বরেই মেয়াদ শেষ হতে চলেছে ১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির। গত তিন দশক ধরে চলা এই চুক্তি দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত সফল বলে মনে করে ঢাকা। তাই চুক্তিটির নবীকরণ নিশ্চিত করতেই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। কূটনৈতিক সূত্রের মতে, দিল্লি সফর থেকে ঠিক কী কী ইতিবাচক প্রাপ্তি নিয়ে ঘরে ফেরা সম্ভব, সেসব কীভাবেই বা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা যাবে, এনিয়ে পরিকল্পনা করছেন তারেক রহমান।
ইতিমধ্যেই উভয় দেশের কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং সফরের সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি (এজেন্ডা) বা রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। জলবণ্টন চুক্তির পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং ভিসা পরিষেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিও এই সফরে প্রাধান্য পেতে পারে।
তবে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির নবীকরণ নিয়ে ভারতের অন্দরেও রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। এই চুক্তি বিহারের স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এনডিএ জোটের শরিক দল জেডিইউ-এর সাংসদ সঞ্জয় ঝা। যদিও এই বিষয়ে উদ্বেগ নিরসন করে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন, চুক্তি নবীকরণের ক্ষেত্রে বিহারের স্বার্থের দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে কেন্দ্র।

