উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : একদিকে তিনি বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অবিসংবাদিত ‘ইন্ডাস্ট্রি’, অন্যদিকে তিনি দেশের রাজনীতির ‘চাণক্য’। সোমবার বিকেলে কলকাতার বালিগঞ্জে এই দুই মেরুর আচমকা মিলনে তৈরি হল এক নতুন কৌতূহল। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বালিগঞ্জের বিলাসবহুল বাসভবন ‘উৎসব’-এ এদিন সটান হাজির হলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা (Amit Shah Prosenjit Chatterjee assembly)। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ১৫ মিনিটের ঝটিকা সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতি ও টলিপাড়ায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
জানা গিয়েছে, সোমবার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শহরে এসেছিলেন অমিত শা (Amit Shah Kolkata go to)। দিনভর তাঁর ঠাসা কর্মসূচি ছিল। কিন্তু শত ব্যস্ততার মাঝেও সময় বের করে তিনি সোজা চলে যান প্রসেনজিতের বাড়িতে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে এদিন দেখা যায় বিজেপি নেত্রী তথা সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়কেও (Locket Chatterjee)।
কিন্তু হঠাৎ কেন অভিনেতার বাড়িতে অমিত শা? রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়ালেও, সূত্রের খবর, এই সাক্ষাতের নেপথ্যে রয়েছে নিছকই এক আতিথেয়তার প্রতিশ্রুতি। গত মে মাসে দিল্লিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতির হাত থেকে সম্মানজনক ‘পদ্মশ্রী’ গ্রহণ করেন বুম্বাদা। সেই দিল্লি সফরেই অমিত শাহের সঙ্গে তাঁর একপ্রস্ত সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়েছিল। তখনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কলকাতায় নিজের বাড়িতে আসার সাদর আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন অভিনেতা। সেই আমন্ত্রণ রক্ষা করতেই এদিন ‘উৎসব’-এর দ্বারস্থ হন শা। হাই-প্রোফাইল এই অতিথি আপ্যায়নের জন্য সকাল থেকেই প্রসেনজিতের বাড়িতে ছিল সাজসাজ রব।
যদিও এই প্রথম নয়, পদ্ম সম্মান ঘোষণার পর থেকেই বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’র এই উষ্ণ সমীকরণ নজরে এসেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পদ্মপ্রাপকদের নাম ঘোষণার পরপরই প্রসেনজিতের বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং অভিনেতা-বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। পুষ্পস্তবক ও উত্তরীয় পরিয়ে সেদিন অভিনেতাকে সম্মান জানিয়েছিলেন তাঁরা। প্রসেনজিতের কঠোর ডায়েটের কথা টলিপাড়ার সকলেরই জানা। তা সত্ত্বেও সেদিন সুকান্ত মজুমদার অভিনেতার হাতে মিষ্টি ও ড্রাই ফ্রুটস তুলে দিয়ে রসিকতা করে বলেছিলেন, “আপনি খাবেন না জানি, তাও আমরা আপনার জন্য নিয়ে এসেছি।”
সোমবারের এই মেগা-সাক্ষাৎ নিয়েও এখনও পর্যন্ত দুপক্ষের কেউই প্রকাশ্যে কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করেননি। তবে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় আইকনের এই ধারাবাহিক ‘সৌজন্য’ যে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনার জন্ম দিচ্ছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

