উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৫ সালে অবৈধভাবে প্রবেশ ও নথিপত্র সংক্রান্ত সমস্যায় আমেরিকা থেকে বিতাড়িত (Deported) করা হয়েছে ৩৮০০-এরও বেশি ভারতীয়কে। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেশ করা হয়েছে। বিশেষ করে পঞ্জাব ও হরিয়ানার যুবসমাজের মধ্যে জনপ্রিয় হওয়া অবৈধ ‘ডঙ্কি রুট’ (Dunki Route) নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই এই পরিসংখ্যান সামনে এল।
পরিসংখ্যান কী বলছে?
বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত ওয়াশিংটনের মাধ্যমে ৩,৪১৪ জন সহ মোট ৩,৮০০ জনের বেশি ভারতীয়কে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ভারতীয় কনস্যুলেটগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নির্বাসনের পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হল:
• হিউস্টন: ২৩৪ জন (সর্বাধিক)
• নিউ ইয়র্ক: ৪৭ জন
• সান ফ্রান্সিসকো: ৪৯ জন
• আটলান্টা: ৩১ জন
• সিয়াটল: ৩১ জন
‘মানবিক ব্যবহার’ ও কড়া পদক্ষেপের দাবি
ভারত সরকার জানিয়েছে, নির্বাসনের প্রক্রিয়া চলাকালীন ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে যাতে ‘মানবিক আচরণ’ করা হয়, সে বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে নিরন্তর আলোচনা চলছে। বিশেষ করে নির্বাসিত নারী ও শিশুদের ওপর যাতে কোনওভাবে শারীরিক বা মানসিক চাপ সৃষ্টি না করা হয়, সে বিষয়ে নয়াদিল্লি তার আপত্তির কথা স্পষ্টভাবে ওয়াশিংটনকে জানিয়েছে।
‘ডঙ্কি রুট’ রুখতে সাঁড়াশি অভিযান
অবৈধ অভিবাসনের এই রমরমা রুখতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলো যৌথভাবে কাজ করছে। নির্বাসিতদের সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে ইতিমধ্যেই একাধিক বেআইনি ট্রাভেল এজেন্ট এবং মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে:
• ১৯৮৩ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট (The Emigration Act 1983) অনুযায়ী, বৈধ লাইসেন্স ছাড়া কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা রিক্রুটিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারবে না।
• ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ৩,৫০৫ জন বেআইনি এজেন্টকে চিহ্নিত করে ‘ই-মাইগ্রেট’ পোর্টালে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
• ইসিআর (ECR) পাসপোর্টধারীদের জন্য ১৮টি দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়পত্র বা এমিলগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিপজ্জনক পথে বিদেশ না গিয়ে সরকারি পোর্টাল এবং স্বীকৃত এজেন্টের মাধ্যমে নিরাপদ অভিবাসনের পরামর্শ দিচ্ছে কেন্দ্র।
