উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: রাজ্যের সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার খোল নলচে বদলে ফেলতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সরকারি হাসপাতালগুলির দীর্ঘদিনের ‘ক্রনিক ডিজিজ’ তথা দালালচক্র এবং রোগীদের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘোরানোর হয়রানিমূলক ‘রেফার-সংস্কৃতি’ চিরতরে বন্ধ করতে সরাসরি ময়দানে নামলেন তিনি। শুক্রবার কলকাতার এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে স্বাস্থ্য অধিকর্তা এবং শহরের সমস্ত মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই একগুচ্ছ কড়া প্রশাসনিক দাওয়াই দিয়েছেন তিনি।
হাসপাতালগুলির প্রতিদিনের গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখতে স্বাস্থ্যভবনে একটি হাইটেক ‘ওয়াররুম’ (Battle Room) তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ওয়াররুমের সরাসরি ডিজিটাল লিঙ্ক থাকবে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে, যার মাধ্যমে তিনি নিজেই গোটা রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর রিয়েল-টাইম নজরদারি চালাবেন। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রতিটি হাসপাতালে কতগুলি বেড খালি রয়েছে, তার লাইভ হিসাব দেখানোর জন্য ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
মেডিকেল সংস্কারে মুখ্যমন্ত্রীর ৪টি বড় দাওয়াই:
- পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক: হাসপাতালে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে জুনিয়র ডাক্তার থেকে শুরু করে অধ্যাপক এবং সমস্ত স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীদের ডিউটি চলাকালীন আইডি কার্ড (ID Card) পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- ক্যাম্পাসে কঠোর নিরাপত্তা: মেডিকেল কলেজগুলিতে ডাক্তারি পড়ুয়াদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ক্যাম্পাস চত্বরে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। বহিরাগত দেখলেই নেওয়া হবে আইনি পদক্ষেপ।
- জিপিএস ট্র্যাকার যুক্ত অ্যাম্বুল্যান্স: রাজ্যজুড়ে এবার চালু হতে চলেছে একটি কেন্দ্রীভূত অ্যাপ-নির্ভর অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া এবং সিন্ডিকেট রাজ রুখতে প্রতিটি অ্যাম্বুল্যান্সে থাকবে জিপিএস (GPS) ট্র্যাকার।
- বেসরকারি হাসপাতালে ১৫% বেড: বিনামূল্যে সরকারি জমি পাওয়ার শর্ত অনুযায়ী, বেসরকারি হাসপাতালগুলির মোট শয্যার ১৫ শতাংশ যাতে রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের নিখরচায় চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঝোড়ো ইনিংসের পর রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আসে কিনা এবং সাধারণ মানুষ কতটা স্বস্তি পান, এখন সেটাই দেখার।
