উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন যেন প্রতিদিন নতুন মাত্রা পাচ্ছে। লোকসভায় দলের সংসদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ ক্রমশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই এবার শোনা যাচ্ছে, তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরে (TMC MP insurrection) যোগ দিতে চলেছেন উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Bandyopadhyay)। শনিবার দিল্লিতে (Delhi) তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ শতাব্দী রায়ের (Satabdi Roy) সঙ্গে একই গাড়িতে চেপে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের (Bhupender Yadav) বাড়িতে পৌঁছান তিনি। সেখানে বৈঠক করেন তাঁরা।
শনিবার সকালে কলকাতা থেকে একই বিমানে দিল্লি পৌঁছান সুদীপ ও শতাব্দী। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে তাঁরা দুজনেই সোজা রওনা দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনের দিকে। সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের একাধিক গোপন বৈঠক হয়েছে এই মন্ত্রীর বাড়িতে। সেই সূত্রেই শনিবারের এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা চলছে। তবে লোকসভায় দলের সাংসদদের একাংশের প্রকাশ্যে বিদ্রোহী হয়ে ওঠার ঘটনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন, তখনই লোকসভায় দলের অন্দরে ভাঙন প্রকট হয়ে ওঠে।
এর আগে বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছিলেন, তাঁদের সঙ্গে প্রায় ২০ জন সাংসদের সমর্থন রয়েছে এবং তাঁরা কেন্দ্রে এনডিএ-কে সমর্থন করতে ইচ্ছুক। শুক্রবার ১৯ জন তৃণমূল সাংসদের স্বাক্ষরযুক্ত একটি নথিও প্রকাশ্যে আসে। যদিও সেই তালিকায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ছিল না। কিন্তু শনিবার শতাব্দীর সঙ্গে ভূপেন্দ্রর বাড়িতে সুদীপের উপস্থিতির পর থেকেই জল্পনা তুঙ্গে। তবে কি এবার বিদ্রোহের মূল স্রোতে নাম লেখালেন সুদীপও? উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক মহল।
