উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দিল্লির যন্তরমন্তরে অনশনরত পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে (Sonam Wangchuk) দিল্লি পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি (Hospitalized) করেছে। দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সোনমকে সফদরজং হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি করেছে পুলিশ। তবে এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারকে বিশ্বাস করা যায় না, তাই সোনমকে অবিলম্বে কোনও বেসরকারি হাসপাতালে (Non-public hospital) স্থানান্তরিত করা উচিত।
শনিবার সোনমকে হাসপাতালে সরানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের উদ্বেগের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি লেখেন, ‘সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। উনি কেবল সরকারের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে অনশন করেও সরকারের নীরবতা ছাড়া কিছুই পাননি।’ মমতা আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। এভাবে নীরব থাকা যায় না।’
Deeply involved about Sonam Wangchuk’s well being and well-being. He requested just for dialogue, but his attraction has been met with silence for weeks. In a democracy, peaceable dissent deserves engagement, not silence.
His voice has been ignored, simply because the voices of numerous younger…
— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) July 18, 2026
নিজের রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ অনশন সংগ্রামের স্মৃতি টেনে এনে মমতা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সরকারি হাসপাতালে সোনমের সঠিক চিকিৎসা না-ও হতে পারে। তিনি বলেন, ‘সোনমকে অবিলম্বে বেসরকারি হাসপাতালে সরানোর অনুমতি দেওয়া হোক। প্রয়োজনে আমজনতা তাঁর চিকিৎসার খরচ চালাবে।’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, যে সরকার ভিন্নমতকে গণতন্ত্রের অংশ না ভেবে হুমকি হিসেবে দেখে, সেই সরকারকে বিশ্বাস করা অসম্ভব।
উল্লেখ্য, সোনমের অনশন চলাকালীনই মমতা তাঁকে ফোন করে শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছিলেন। সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় তাঁর ২৬ দিনের অনশন যেমন জাতীয় রাজনীতিতে সাড়া ফেলেছিল, সোনমের আন্দোলন নিয়েও তাঁর এই ভূমিকা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু করেছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমন করে জনগণের আস্থা অর্জন করা যায় না—এই বার্তাই যেন দিতে চেয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

