প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বুদ্ধিমত্তার জেরে সেক্সটর্শন চক্রের ফাঁদে পড়ার হাত থেকে রক্ষা পেলেন বর্ধমান (Bardhaman) দক্ষিণের তৃণমূল (TMC) বিধায়ক খোকন দাস। ফোনে আসা ভিডিও কল রিসিভ করতেই স্ক্রিনে ভেসে ওঠে মহিলার নগ্ন ভিডিও। তড়িঘড়ি বর্ধমান সাইবার থানার দ্বারস্থ হন বিধায়ক।
বিধায়ক খোকন দাসের কথায়, ‘নানা প্রয়োজনে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তাঁকে ফোন করেন। তার মধ্যে অনেক অচেনা ফোন নম্বরও থাকে। একইভাবে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে তাঁর ফোনে ভিডিও কল আসে। তিনি ওই কল রিসিভ করেই কার্যত চমকে ওঠেন। দেখেন, তাঁর মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে মহিলার নগ্ন ভিডিও। এমনটা দেখেই তিনি ফোন কেটে দেন। তাঁকে ফাঁসানোর চক্রান্ত করে কেউ এমন ভিডিও কল করেছে অনুমান করে দ্রুত বর্ধমান সাইবার থানায় ছুটে যান। ঘটনায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন।
সেই অভিযোগের তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ফোন রাজস্থান থেকে এসেছিল। লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ আরও জানতে পারে, রাজস্থানের ভরতপুর এলাকা থেকে ভিডিও কল (Video Name)-টি করা হয়েছিল। কে কল করেছিল, তার খোঁজে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, রাজস্থানের বিভিন্ন সাইবার গ্যাং রাতের দিকে ভিডিও কল করে। কল ধরলেই পর্ন ভিডিওর ক্লিপ চালানো হয়। এরপর স্ক্রিন রেকর্ড করে দু’পাশের ভিডিও এক ফ্রেমে জুড়ে তৈরি করা হয় ‘ফেক’ আপত্তিকর ভিডিও। তারপর শুরু হয় ব্ল্যাকমেলিং। টাকা না দিলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। অনেকে সম্মানের ভয়ে টাকা দিয়ে দেয়। সম্প্রতি বর্ধমান রেঞ্জের এক ডিআইজির ছবি ব্যবহার করে নকল সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট খোলার অভিযোগে রাজস্থান থেকে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ওই ব্যক্তি সেক্সটর্শন চক্রের অংশ নয় বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারী এক আধিকারিক জানান, বিধায়ককে যে ভিডিও কল করেছে, তাকে চিহ্নিত করা গিয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি চলছে।
