সিতাই: পুলিশি নিরাপত্তায় রবিবার ভোর রাতে নিজ বাড়িতে ফেরেন কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। তবে তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে উত্তরবঙ্গের এই এলাকায়। সাংসদের বাড়ি ফেরার খবর চাউর হতেই সিতাই (Sitai) বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয় এবং তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা।
রবিবার দুপুরে সিতাই বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ব্লক তৃণমূল (TMC) কার্যালয়ে এই তাণ্ডবের জেরে গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কার্যালয় ভাঙচুরের পাশাপাশি অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, এ দিন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও বিজেপি কর্মীদের একটি অংশ সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গত ১৫ বছরে রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন ওই সাংসদ। রাইস মিল সহ একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলারও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।
সাংসদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনেও তাঁকে তীব্র কটাক্ষ করেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক কেরিয়ারে প্রথমে ফরওয়ার্ড ব্লক, পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে দল বদলে বিজেপিতে নাম লেখানোর বা যোগ দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া (Jagadish Chandra Barma Basunia)। তবে কোনো অবস্থাতেই তাঁকে এবং তাঁর অনুগামীদের বিজেপিতে স্থান দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় বিক্ষোভকারীরা।
এই ঘটনার জেরে সিতাইয়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এবং বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা। প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।

