সিতাই: বিধানসভায় সোমবার বাজেট ঘোষণার পর কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া নিজের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট করেন। সেই পোস্টে রাজ্য বাজেটকে ‘জনকল্যাণমুখী’ আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়। সেই পোস্ট হতেই সিতাই সহ কোচবিহারজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা এবং কটাক্ষ। পোস্টের কমেন্ট সেকশনে নেটিজেনরা উগরে দিচ্ছেন তাঁদের ক্ষোভ।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই সিতাইয়ের তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা ঘরছাড়া। কেউ কেউ আবার ভোট পরবর্তী হিংসার মুখে পড়েছেন। তখন থেকেই সিতাইছাড়া সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া এবং সিতাইয়ের বিধায়ক সংগীতা রায় সহ পুরো পরিবার। এলাকায় তাঁদের দেখা না মিললেও সংবাদমাধ্যমের সৌজন্যে সিতাইবাসী সাংসদ-বিধায়কের খোঁজ পাচ্ছেন। সম্প্রতি দিল্লিতে জগদীশের একাধিক রাজনৈতিক বৈঠক এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ্যে আসে। একই সঙ্গে এনসিপিআই-তে যোগদানের জল্পনাও রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। কিন্তু এর মাঝে সিতাইয়ে ফিরে এসে এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা বা কর্মী-সমর্থকদের পাশে দাঁড়ানোর কোনও উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে জগদীশের সোশ্যাল মিডিয়ায় করা পোস্ট ক্ষোভ আরও উসকে দিয়েছে। কমেন্ট সেকশনে অর্কজ্যোতি গঙ্গোপাধ্যায় নামে একজন লিখেছেন, ‘যাক, আপনারা সরকারে থাকতে তো এরকম জনমুখী বাজেট কোনওদিন পেশ করতে পারেননি। খালি নিজের বৌয়ের, নিজের ছেলেমেয়ের সবার আখের গুছিয়েছেন।’ সুদীপ ভট্টাচার্য তাঁকে সিতাইয়ে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন, ‘বাড়িতে আসছেন না কেন, ডিজে বাজাবেন বলেছিলেন, আসুন বাড়িতে।’ আরেক নেটিজেন কপিল বর্মনের কটাক্ষ, ‘সবসময় শাসকদলে থাকিবেন, তাহলে লুটিপুটি খাওয়াটা ভালো হইবে। কোটি কোটি টাকা মারিছেন। এইবারও কোটি টাকা মারিবেন, খালি কামাই আর কামাই।’
কয়েকজন আবার সরাসরি ‘পালটিবাজ’ বলেও তোপ দেগেছেন। বেশিরভাগেরই প্রশ্ন, যাঁরা ভোট দিয়ে তাঁকে সাংসদ এবং তাঁর স্ত্রী সংগীতা রায়কে বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন, সেই সাধারণ মানুষের দুর্দিনে তাঁদের পাশে না থেকে দূরে বসে রাজনৈতিক সমীকরণ কষা কতটা গ্রহণযোগ্য? শুধু সাধারণ মানুষ নন, সাংসদের প্রতি ক্ষোভ জন্মেছে দলের নেতা-কর্মীদের মনেও। তৃণমূল কংগ্রেসের সিতাই ব্লকের এক নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের আগে মানুষের কাছে গিয়ে ভোট চেয়েছিলেন। কিন্তু ভোটের পর যখন কর্মী-সমর্থকরা আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ তুলছেন, তখন তাঁকে এলাকায় দেখা যায়নি। দিল্লিতে বৈঠক, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ সবই হচ্ছে, কিন্তু নিজের এলাকার মানুষের খোঁজ নেওয়ার সময় নেই।’ তাঁর সংযোজন, ‘এদিন আবার মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট করেছেন। তারপরই মানুষ তাঁদের ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন।’

