বালুরঘাট: তিনদিনের ছবি উৎসবে উন্মাদনায় মাতলো বালুরঘাটবাসী। কোথাও জল রং, তেল রং, চারকোল পেন্টিং আবার কোথাও রুল শেড, মিক্সড মিডিয়া ছবিতে সেজে উঠেছে বালুরঘাটের মন্মথ নাট্য চর্চা কেন্দ্রের আর্ট গ্যালারি। শুক্রবার সন্ধ্যায় এই ছবি মেলার উদ্বোধন করেন বালুরঘাটের বিশিষ্ট চিত্রশিল্পীরা। শনিবার ছিল তার দ্বিতীয় দিন। রবিবার পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে এই ছবিমেলার সমাপ্তি হবে।
প্রতিবছর কালার এফেক্ট আর্টিস্ট সোসাইটির উদ্যোগে এই ছবি উৎসবের আয়োজন হয়ে আসছে বালুরঘাটে। এবছর তাদের এই ছবি প্রদর্শনী ২৭তম বছরে পড়ল। যেখানে বিভিন্ন মাধ্যমের ছবির পাশাপাশি ভাস্কর্য শিল্প জায়গা করে নিয়েছে। তিনদিনের এই ছবি উৎসব প্রতিদিন বিকেল চারটা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত চলছে। যেখানে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট, গঙ্গারামপুর, জলঘর, পতিরাম ছাড়াও উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ শহরেরও একাধিক চিত্রশিল্পীর ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। পাশাপাশি, শিলিগুড়ির চিত্রশিল্পীদের শিল্পকর্ম এখানে স্থান পেয়েছে। এই ছবি মেলায় মোট ৪৩ টি ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে। পাশাপাশি, একাধিক ভাস্কর্য রয়েছে এই উৎসবে। এদিন সন্ধ্যায় প্রায় ৩০ জন চিত্রশিল্পী লাইভ পেইন্টিংএর মাধ্যমে একটি ওয়ার্কশপে শামিল হয়েছিলেন। যার মাধ্যমে একে অপরের শিল্পকর্ম দেখে সমৃদ্ধ হওয়ার পরিসর ছিল। রবিবার শিশুদের অঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন উদ্যোক্তারা।
উদ্যোক্তা সৈকত ঘোষ জানান, ‘নতুন প্রজন্মের চিত্রশিল্পীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখছি। এবছর ১৫ জন নতুন চিত্রশিল্পীর ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে ছবি মেলায়। তাদের মধ্যে ভালো কাজ করার প্রবণতা রয়েছে। এই ডিজিটাল যুগেও ছবির প্রতি সাধারণ মানুষের আকর্ষণ লক্ষ্য করছি। বালুরঘাটের দর্শকদের কাছ থেকে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া পেয়েছি।’
জলঘরের চিত্রশিল্পী সত্যম ঘোষ জানান, ‘প্রায় ১২ বছর ধরে ছবি আঁকছি। অ্যাক্রেলিক, স্কেচ মাধ্যমে ছবি আঁকতে পছন্দ করি। এর আগেও একাধিক ছবি উৎসবে আমার ছবি গিয়েছে। এই প্রদর্শনীতে ছবিতে যথেষ্ট প্রশংসা পাচ্ছি।’
পরানপুরের চিত্রশিল্পী স্নিগ্ধা মহন্ত বলেন, ‘জল রং ও এক্রেলিক মাধ্যমে ছবি আঁকতে সচ্ছন্দ্য বোধ করি। বিগত পাঁচ বছর ধরে এই ছবিমেলায় প্রদর্শনীর জন্য ছবি দিচ্ছি। দর্শকরা ছবি দেখে মুগ্ধ হয়ে ভালো লাগার কথা জানাচ্ছেন।’
