সাগর বাগচী, শিলিগুড়ি: নিজেদের ভিটেমাটি বাঁচাতে মরিয়া বাসিন্দারা ফঁাসির দড়িকেই প্রতীকী হাতিয়ার করলেন।
শুনানির পর রেলের তরফে ৪০০টি বাড়িতে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। রেলের জমিতে থাকা ওই ঘরবাড়ি সরাতে ১৫ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। দখল না সরালে রেল উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ঘরবাড়ি ভেঙে দেবে বলে নোটিশে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। ওই নোটিশের প্রতিবাদে মঙ্গলবার ফুলবাড়ি–১ গ্রাম পঞ্চায়েতের রামনগর মজদুর বস্তি উচ্ছেদ বিরোধী নাগরিক কমিটির তরফে ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করে প্রতীকী প্রতিবাদ জানানো হয়। পুনর্বাসন ছাড়া বাসিন্দারা সরবেন না বলে সেখান থেকে বার্তা দেওয়া হয়। আন্দোলন করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করতেও তাঁরা প্রস্তুত, ফাঁসির দড়ি প্রতীকীভাবে গলায় দিয়ে বাসিন্দারা সেই বার্তাই দেন। পুনর্বাসনের দাবিতে উচ্ছেদের নোটিশ পাওয়া বাসিন্দারা এদিন বিকেলে শিলিগুড়ির (Siliguri) ইস্টার্ন বাইপাস ও ভিআইপি রোডের সংযোগকারী পাকুড়তলা মোড়ও অবরোধ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধের জেরে ব্যাপক যানজট হয়।
বীর বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবস হওয়ায় ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করে প্রতীকী বিক্ষোভের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল বলে নাগরিক কমিটির তরফে জানানো হয়। কমিটির আহ্বায়ক আশিস রায় বলেন, ‘পুনর্বাসন ছাড়া আমরা এক ইঞ্চি জায়গাও ছাড়ব না। রেল শক্তি খাটিয়ে আমাদের তোলার চেষ্টা করলে আমরা জীবন দিয়ে সেই উচ্ছেদ অভিযান প্রতিহত করব। বাঁশবাড়িতে রাজ্য সরকারের তরফে আমাদের বসানো হয়েছে।’ রাস্তা অবরোধের খবর পেয়ে এনজেপি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলার পর পুলিশি আশ্বাসে অবরোধ ওঠে। নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জয় লোধ বলেন, ‘রেল পুনর্বাসন ছাড়াই সর্বত্র উচ্ছেদের নোটিশ দিচ্ছে। বাসিন্দারা এখানে কয়েক দশক ধরে বাস করছেন। জলপাইগুড়িতে বন্যার সময় অনেককে সেখান থেকে সরিয়ে জেলা প্রশাসন বাঁশবাড়িতে বসায়। পুনর্বাসন ছাড়া আমরা কাউকেই ওঠাতে দেব না।’
রামনগর মজদুর বস্তির পাশাপাশি শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৬, ৭, ২৪ এবং ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনের পাশে থাকা বস্তিবাসীদেরও রেলের তরফে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। রেলের জমি বেআইনিভাবে দখল করে তাঁরা বসবাস করছেন, এই অভিযোগে ওই ওয়ার্ডগুলির বাসিন্দাদের রেল শুনানির জন্য ডেকেছিল। তাঁরা নিজেদের নথিপত্র জমা দিয়েছেন। এরপর থেকেই রেলের জমিতে থাকা বাসিন্দাদের মধ্যে উচ্ছেদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বাগরাকোটের পাইকারি সবজি বাজারের ৩০৬টি দোকানেও রেলের তরফে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সেখানকার ব্যবসায়ীদের ২১ অগাস্ট কাটিহারে ডিআরএম অফিসে ডাকা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে পুনর্বাসনের দাবিতে রেলের নোটিশ পাওয়া শিলিগুড়ি পুরনিগম ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারা আগামী ১৭ অগাস্ট নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের এডিআরএম অফিসে বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন।

