অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: বিগত কয়েকদিন ধরে রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা জিসিপিএ নেতা নগেন রায় (Nagen Roy)। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু (Netaji Subhas Chandra Bose) সম্পর্কে বিভিন্ন জায়গায় নানান আলটপকা মন্তব্য করে চলেছেন তিনি। আর তাঁর অনুগামীরা সেই মন্তব্যের সমর্থনে যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন। যদিও সেটার বিরোধও হচ্ছে। তবে রাজ্যের শাসকদল বিজেপির নেতাদের চুপ থাকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। সেই নীরবতা ধীরে ধীরে কাটছে। এবার সরাসরি বিজেপির সাংসদের মন্তব্যের বিরোধিতা করলেন কুমারগ্রামের বিধায়ক তথা রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ (Manoj Oraon Slams Nagen Roy)।
মঙ্গলবার বনমন্ত্রীকে ওই প্রসঙ্গকে নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘নেতাজি কে, তাঁর অবদান কী, সেটা গোটা দেশ, গোটা বিশ্ব জানে। তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন কুরুচিকর কথা বলা হচ্ছে। যেটা একেবারেই কাম্য নয়।’ নগেনের নাম উল্লেখ না করলেও তাঁকে উদ্দেশ্য করে মনোজ বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিদের কথা বলতে গেলে ভেবেচিন্তে বলতে হয়। যে জনপ্রতিনিধি নেতাজিকে নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করছেন, তাঁর বিরোধিতা করছি। এটা মানা যায় না।’ মনোজের আরও বক্তব্য, যে পরিস্থিতি বর্তমানে তৈরি হয়েছে, সেটা একদমই কাম্য ছিল না। তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে এ বিষয়ে নালিশ করবেন এবং বিজেপির শীর্ষ নেতাদেরও আপত্তি জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
কয়েকদিন আগে দিনহাটায় একটি কর্মসূচির পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নেতাজি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেছিলেন নগেন। কয়েকদিন পর দিল্লিতে সংসদ ভবনের সামনে দাঁড়িয়েও একই রকম মন্তব্য করতে দেখা যায় তাঁকে। প্রশ্ন তোলেন নেতাজির নেতৃত্ব, আজাদ হিন্দ ফৌজ নিয়ে। শেষ সংযোজন গত রবিবারের শিলিগুড়ির কাছে জাবরাভিটায় সংগঠনের কর্মসূচিতে নগেনের বক্তব্য। সেখানে তিনি প্রশ্ন করেন- নেতাজিকে কে নেতা বানাল? এমনকি তঁাকে যুদ্ধাপরাধীও বলে ফেলেন নগেন। আর তাঁর অনুগামীদের মধ্যে একপ্রকার প্রতিযোগিতা চলছে- সোশ্যাল মিডিয়ায় কে কত বেশি নেতাজিকে নিয়ে কুমন্তব্য করতে পারেন। ছড়ানো হচ্ছে ভুয়ো খবর। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জায়গায় নগেনের বিরোধিতায় আন্দোলন হচ্ছে। থানায় অভিযোগও হয়েছে।
আলিপুরদুয়ার শহরে ১৪ অগাস্ট একটি মৌনমিছিল আয়োজন করা হয়েছে ‘নেতাজি প্রেমী’ সংগঠনের তরফে। সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজেপির সাংসদকে নিয়ে যে ক্ষোভ বাড়ছে, সেটার আঁচ পেয়ে বিজেপি নেতারাও বিরোধিতায় নামছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

