মণিশংকর ঠাকুর, তপন : মধুচন্দ্রিমায় বন্ধুকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করানোর অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, পুত্রবধূর ধর্ষিতা হওয়ার ক্ষেত্রে যোগ রয়েছে শাশুড়িরও। এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগে তোলপাড় দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন। বিয়ের মাত্র চার মাস পর স্বামী এবং শাশুড়ির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলে তপন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক গৃহবধূ। অভিযোগে নাম রয়েছে স্বামীর ঘনিষ্ঠ বন্ধুরও। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। তপন থানার আইসি জনমারি ভিয়ান্নে লেপচা বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে। আইনানুগ কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ত্রিপুরার আগরতলার পুনরাবৃত্তি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তপনে। আগরতলায় বন্ধুদের সঙ্গে স্ত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল স্বামীর বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যে তপনে বন্ধুকে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ করানোর অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। আগরতলায় অভিযুক্তরা ধরা পড়লেও, তপনে এখনও পলাতক অভিযুক্ত স্বামী এবং তার মা। তপন ব্লকের ধর্ষিতা তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, বিয়ের এক মাস পর দার্জিলিংয়ে মধুচন্দ্রিমায় নিয়ে গিয়ে এমন কাণ্ড ঘটানো হয়েছে। পরবর্তীতে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে স্বামীর ও তার বন্ধুর বাড়িতে। ওই বধূর বক্তব্য, দার্জিলিংয়ে একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন তাঁর পাশে শুয়ে রয়েছে স্বামীর বন্ধু। কীভাবে স্বামীর বন্ধু তাঁর পাশে এল, তা তিনি টের না পেলেও, মনে পড়ে যায় রাতের খাবারের পর তাঁর আচ্ছন্ন হয়ে পড়ার ঘটনা।
তাঁর আরও অভিযোগ, মধুচন্দ্রিমা থেকে ফেরার পরও নির্যাতন থামেনি। স্বামী ও তার বন্ধু মিলে একাধিকবার তাঁকে ধর্ষণ করে। এমনকি ওই গৃহবধূর শ্বশুরবাড়িতেও একই ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি, স্বামীর বন্ধুর বাড়িতেও নির্যাতন চলে। গৃহবধূ অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে শাশুড়ি তাঁকে দুধ দিতেন। দুধ খাওয়ার পরই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়তেন তিনি। সেই সুযোগ নিয়ে স্বামী ও তাঁর বন্ধু মিলে তাঁকে নির্যাতন করত। দিনের পর দিন একই ধরনের ঘটনা ঘটলেও মানসম্মানের কথা চিন্তা করে বাবা ও মা, আত্মীয়পরিজনদের কিছু জানাননি। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর মনে হয়েছে, এর শেষ হওয়া প্রয়োজন। তাই তিনি বাবার বাড়িতে ফিরে এসে রবিবার তপন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশে অভিযোগ দায়ের হতেই অবশ্য ওই বধূর স্বামী, তার বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা গা-ঢাকা দিয়েছে। সোমবার অভিযোগকারী বধূর মেডিকেল পরীক্ষা করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের খোঁজ পেতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশিও শুরু করেছে পুলিশ।
ওই বধূর বাপের বাড়ির এক প্রতিবেশী বলেন, ‘চার মাস আগে জেলারই এক তরুণের সঙ্গে রীতিমতো রাজকীয়ভাবে বিয়ে হয়েছিল মেয়েটির। বিয়ের পর খুব খুশিই লাগত দেখতে। এমন ভয়ংকর ঘটনা মেয়েটির সঙ্গে ঘটবে, আমাদের কল্পনাতেও ছিল না। আমরা চাই সঠিক তদন্ত করে পাড়ার মেয়েকে সুবিচার দিক পুলিশ। কঠোর শাস্তি পাক দোষী প্রত্যেকে।’ অন্যদিকে অভিযুক্ত স্বামীর এক প্রতিবেশী বলছেন, ‘ছেলেটা খুব শান্ত স্বভাবের। তবে কখনও এরকম ঘটনায় জড়াবে বা করবে ধারণা ছিল না।’ তবে স্থানীয়দের একাংশের মতে, ঘটনার পূর্ণ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে নির্দোষ বলা যায় না।
