কিশনগঞ্জ: কিশনগঞ্জের বাহাদুরগঞ্জে বাইকের ডিক্কি ভেঙে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা নগদ এবং লক্ষাধিক টাকার সোনা-রুপোর গয়না চুরির ঘটনায় বড় সাফল্য পেল পুলিশ। সুদূর হুগলি জেলা থেকে এই আন্তঃরাজ্য চোর চক্রের মূল পান্ডা বিকাশ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে কিশনগঞ্জ পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (Kishanganj police arrest interstate felony)। মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের হুগলির পাণ্ডুয়া থানা এলাকার খাদাজী পাড়া পুরুষোত্তমপুর থেকে তাকে পাকড়াও করা হয়। বুধবার জেলার পুলিশ সুপার সন্তোষ কুমার জানিয়েছেন, হুগলি আদালতের ট্রানজিট রিমান্ডে ধৃতকে এখন কিশনগঞ্জে নিয়ে আসা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৯ জুন বাহাদুরগঞ্জের বাসিন্দা ও পেশায় স্বর্ণব্যবসায়ী নির্মল কুমার বসাক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, গত ১৮ জুন রাতে নিজের জুয়েলারির দোকান বন্ধ করে বাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথেই চিকেন কেনার জন্য বাইকটি দাঁড় করিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দোকান থেকে চিকেন কিনে ফিরে এসে তিনি দেখেন, বাইকের ডিক্কি ভেঙে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা সমস্ত সোনা-রুপোর গয়না ও নগদ টাকা চুরি করে চম্পট দিয়েছে।
এই অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসে জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার সন্তোষ কুমারের নির্দেশ এবং মহকুমা পুলিশ আধিকারিক-২ মনোজ কুমার সিংয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়।
ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের বিশেষ দলটি ঘটনাস্থল ও তার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এবং মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন ট্র্যাক করে। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পুলিশ জানতে পারে যে, এই ঘটনার সঙ্গে সুদূর হুগলির একটি দুষ্কৃতী চক্র সরাসরি জড়িত। এরপর কিশনগঞ্জ পুলিশের একটি বিশেষ দল হুগলি জেলা পুলিশের সহযোগিতায় পাণ্ডুয়ায় অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া বেশ কিছু অলংকার সহ মূল অভিযুক্ত বিকাশ দাসকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত বিকাশের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান, হুগলির পাণ্ডুয়া, গুসকরা এবং বিহারের বেশ কয়েকটি থানায় একাধিক ফৌজদারি অপরাধের মামলা রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে এও জানা গিয়েছে যে, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কয়েকজন দুষ্কৃতী জড়িত ছিল। তারা বর্তমানে পলাতক থাকলেও তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার—উভয় রাজ্যের পুলিশই যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।

