সানি সরকার, শিলিগুড়ি: সিকিমেও (Sikkim) ভয় ধরাচ্ছে প্রকৃতি। প্রবল বর্ষণের (Heavy Rain) জেরে বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন জায়গায় যেমন ধস নামছে, তেমনই নিরাশ্রয় হয়ে পড়ছেন প্রচুর মানুষ। প্রশাসনিক তৎপরতায় ধসপ্রবণ এলাকাগুলি থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হলেও, চিহ্নিত ধসপ্রবণ এলাকার বাইরে যেভাবে নতুন করে ধস (Landslide) নামছে, তাতে উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনিক মহলেও। আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির পরিবর্তনেই যে এমন হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি, তা বুঝতে পারছেন আবহবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে কর্তব্য কী, সেই পরামর্শ দিতে পারছেন না তাঁরা। একের পর এক রাস্তা ধসের জেরে বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, তার প্রভাব পুজো পর্যটনে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কিত পর্যটন মহল।
প্রকৃতির রোষে পাহাড়ি রাজ্য সিকিমও। সোমবার পশ্চিম সিকিমের রিম্বিতে বড় ধরনের ধস নামায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুটি বাড়ি। পরিবার দুটিকে ঘটনার পরেই নিরাপদ আশ্রয়ে (বা সেফ শেলটারে) রাখার ব্যবস্থা করে স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে একই জায়গায় নতুন করে ধস শুরু হওয়ায় ঝুঁকি এড়াতে রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের তরফে ৩৮টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে (সেফ শেলটার) সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ধসপ্রবণ এলাকার কিছুটা দূরে থাকা পরিবারগুলিকেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের তরফে। এদিন প্রশাসনের একটি প্রতিনিধিদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এলাকায় মাইকিং করা হয়। স্থানীয় মহকুমা শাসক ভবেশ খায়েলিয়া বলেন, ‘অস্বাভাবিক প্রবল বর্ষণের জেরেই একের পর এক ধস নামার ঘটনা ঘটছে। উদ্ধারকাজে সমস্যা হলেও প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে। আমাদের তরফে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
প্রবল বর্ষণের জেরে ক্ষতির মুখে উত্তর সিকিমও। লায়ক-কিয়ং নদীতে এতটাই জলস্ফীতি ঘটে যে একটি কাঠের সেতু ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্ধ হয়ে যায় এই পথে যান চলাচল। সেতুটি জলের স্রোতে উড়ে না গেলেও, এমন অবস্থায় রয়েছে যে তার ওপর দিয়ে হেঁটে চলাচল করতেও ভয় পাচ্ছেন স্থানীয়রা। জংগুর লিংডেম-লাচেন রোড দিয়ে কবে চলাচল শুরু হবে, বুঝতে পারছেন না কেউই। সেতু সংস্কারে মঙ্গলবার উদ্যোগ নিয়েছিল প্রশাসন। কিন্তু প্রবল বর্ষণের জেরে কাজে হাত দিতে পারেননি কর্মীরা। বুধবার আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে সেতু মেরামত করা হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। তবে আবহাওয়া দপ্তরের গ্যাংটক কার্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত বৃষ্টি কমার তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই। বরং উত্তর ও পশ্চিম সিকিমে আগামী দু’দিন প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। নদীর জল বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় ধস শুরু হওয়ায় প্রশাসনের তরফে জংগুর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অত্যন্ত প্রয়োজন ছাড়া বৃষ্টির সময় বাড়ির বাইরে না যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
কার্যত এক মাস বাকি দুর্গাপুজোর। ফলে ধসের জেরে বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুজো পর্যটন নিয়ে আশঙ্কার মেঘ জমাট বেঁধেছে সিকিমে। সিকিমের পর্যটন ব্যবসায়ী রাজু গুপ্তা বলেন, ‘বর্ষা শেষ হলে রাস্তা মেরামতে জোর দেবে প্রশাসন। কিন্তু বুকিংয়ের ক্ষেত্রে বর্তমান পরিস্থিতির একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তো থাকছেই।’

