জোটের কাছে রাহুল যেন বোঝা হয়ে উঠছেন

জোটের কাছে রাহুল যেন বোঝা হয়ে উঠছেন

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


 

অনেক দিন আগের কথা। ১৯৯৫ সাল। বিহারের বিধানসভার ভোট। দলের হাল দেখতে গিয়েছেন তৎকালীন বিদেশমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়। পাটনার কংগ্রেস অফিস সদাকত আশ্রম থেকে ফিরে জিগ্যেস করলেন, বিহারে কংগ্রেস ক’টা সিট পাবে বলে মনে হয়? বললাম, বড়জোর কুড়ি-পঁচিশটা। কী বলছিস রে! অবাক হয়ে গেলেন কংগ্রেসের চাণক্য, ‘আমাকে যে ওরা বলছে আরও বেশি।’ ওরা বলতে দলের স্থানীয় মাথা আর অনুগতজনেরা।

তখন ঝাড়খণ্ড আলাদা রাজ্য হয়নি। লালুপ্রসাদের জনতা দলের লড়াই ছিল কংগ্রেসের সঙ্গে। তখন বিহারের মোট আসন ৩২৪। শেষপর্যন্ত সেবার কংগ্রেস পেয়েছিল ২৯টা। সেই যে কংগ্রেসের শনির দশা শুরু হল বিহারে, তা আর কাটল না। এখন অবস্থা যা, তাতে ভোটের রেজাল্ট বেরোলে কংগ্রেসকে খুঁজে বের করতে হয়। এবারও তাই। ৬১ আসনে লড়ে কংগ্রেসের হাতে মাত্র হাফ ডজন।

কংগ্রেসকে ঢের পিছনে ফেলে কোথায় চলে গিয়েছে বিজেপি, নীতীশ কুমাররা! জাতপাতের অঙ্কে পিছিয়ে পড়েছে কংগ্রেস। একের পর এক ভোটে হারতে হারতে হারার অভ্যেস করে ফেলেছে শতাব্দীপ্রাচীন দলটা। হাতেগোনা একটি-দুটি রাজ্যে টিমটিম করে সরকারে টিকে রয়েছে এখন। বিহারে এবার অভূতপূর্ব হারের পর তারা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করছে বলে জানা যাচ্ছে, যেমনটা প্রত্যেকবার হয়ে থাকে।

রাহুল সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, এই লড়াই গণতন্ত্র এবং সংবিধান বাঁচানোর লড়াই। কংগ্রেস এই ফলাফল পর্যালোচনা করবে এবং গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই আরও জোরদার করবে। সঙ্গে অবশ্যই বলেছেন ভোট চুরির কথা, নির্বাচন কমিশনের কথা। কবেই জমিদারি গিয়েছে। রয়ে গিয়েছে শুধু জমিদারি মেজাজ। তাই জোটে মাতব্বরি করতে গিয়ে একে একে শরিকদের হারাতে হচ্ছে।

যাঁর হাতে এমন হার, সেই নীতীশ কুমার একসময়ে ছিলেন বিরোধী জোটে। এবার বিহারের আসন বণ্টন টানাটানিতে যেমন সময় গেল, তেমনই এড়ানো গেল না নিজেদের মধ্যে লড়াই। তারপর মহাগঠবন্ধনের মুখ্যমন্ত্রী মুখ কে হবেন বা আদৌ কেউ হবেন কি না, তা নিয়েও মনকষাকষি। সব মিলিয়ে বেশ অগোছাল

চেহারাটা। অথচ আয়োজনে ত্রুটি ছিল না। ভোটার অধিকার যাত্রায় নেমে পড়েছিলেন রাহুল গান্ধি। তাতে বিস্তর ভিড় হল। মনে হল পাশা ওলটাবে। কোথায় কী!

গত ১৭ অগাস্ট থেকে দু’সপ্তাহে মোট ১,৩০০ কিলোমিটার চলেছিল ভোটার অধিকার যাত্রা। ২০টি জেলা ছুঁয়ে যাওয়া সেই যাত্রায় মাঝেমধ্যেই সঙ্গী হয়েছিলেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। ভোটের ফল বেরোলে দেখা গেল, ওই যাত্রাপথের ৩১টি বিধানসভা আসনের মধ্যে মাত্র একটি, আরারিয়ায় জিতেছে কংগ্রেস। আরজেডি আর বামেদের প্রাপ্তি শূন্য।

সেই যে ঢাকঢোল বাজিয়ে ভোটার অধিকার যাত্রা হল, ব্যাস। তারপর ভোটের আগে দু’মাস রাহুলকে আর বিহারে দেখা যায়নি। ওই সময় তিনি দক্ষিণ আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন। ততদিনে যা নিয়ে এত হইচই সেই এসআইআর পর্ব চুকেছে। কেউ কিছুই করেনি। অথচ আরও পাঁচ রাজ্যের ভোটের আগে বিহার ভোটের গুরুত্ব কাউকে আলাদা করে বোঝাতে হবে না।

একদিকে মোদি-শা’র টানা প্রচার, অন্যদিকে এসআইআর নিয়ে চাপানউতোর। পাশাপাশি ভাঁড়ার খালি করে মহিলাদের নগদ বিতরণ। তার মধ্যে কোথায় রাহুল! অবস্থা বুঝে তেজস্বী আলাদা যাত্রা করে অবস্থা সামলানোর চেষ্টা করেছেন বটে, কিন্তু ড্যামেজ কন্ট্রোল কতটা হয়েছে, তা ফলেই দেখা যাচ্ছে। শেষদিকে আবার হঠাৎ উড়ে এসে কয়েকটা জনসভা করা আর পুকুরে ঝাঁপ দেওয়া ছাড়া তেমন কিছু করার ছিল না রাহুলের, করেনওনি।

বিহারের বিধানসভার ভোটে ২০২০ সালের পর এত খারাপ রেজাল্ট করেনি কংগ্রেস। ২০১৫ সালে ২৭টা, ২০২০ সালে ১৯টা। আর এবার ৬টা। ফলে শুধু কংগ্রেসের মধ্যে নয়, তাদের নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে ‘ইন্ডিয়া’ জোটেও। এমনিতেই তাদের দাদাগিরি নিয়ে বারেবারেই ক্ষোভ জানিয়েছে অন্য শরিকরা। যে নেতা ভোট এনে দিতে পারেন না, তাঁর মাতব্বরি অন্যরা মানবে কেন? একসময় ক্ষমতা ছিল বলে এখন তাঁদের খবরদারি কে মানবে?

বেশিরভাগ রাজ্যে তারা প্রান্তিক শক্তি। একার জোরে লড়ার মুরোদ নেই। ভোটে লড়তে শরিকদের লাগে। পাশাপাশি রাহুল আদৌ কতটা সিরিয়াস, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে নিজের দলেই। বিজেপি যেভাবে মন দিয়ে ভোট করায়, তার অর্ধেকও মনোযোগী নয় সোনিয়া গান্ধির পার্টি। ফলে প্রতি ভোটে জমি হারাচ্ছে কংগ্রেস।

আরও একটা বিপদ রয়েছে। কংগ্রেসের নিজেদের দলেই বিদ্রোহ। আগেই রাহুলের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরে গিয়েছেন বেশকিছু নেতা। এবার আরও ক’জন শশী থারুর অপেক্ষায় আছেন, দেখতে হবে!



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *