শুভদীপ শর্মা, লাটাগুড়ি: জন্মের আনন্দ এসেছে। তার পাশেই রয়েছে মৃত্যুর ছায়া। গত পাঁচ থেকে ছয় মাসে গরুমারার জঙ্গলে জন্ম নিয়েছে পাঁচটি গন্ডার শাবক। নতুন প্রাণের আগমনে খুশি বন দপ্তর। কিন্তু বিভিন্ন কারণে গত প্রায় এক বছরে মৃত্যু হয়েছে প্রায় পাঁচটি গন্ডারের। ফলে নতুন শাবক জন্মালেও গরুমারায় (Gorumara) গন্ডারের (Rhinoceros) সংখ্যা আপাতত বাড়েনি।
২০২৫ সালের মার্চে হওয়া গন্ডার শুমারিতে গরুমারায় ৬১টি গন্ডারের সন্ধান মিলেছিল। এরপর একের পর এক গন্ডারের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি জন্ম নিয়েছে নতুন শাবক। দুইয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে গন্ডারের সংখ্যা এখনও ৬১টির আশপাশেই রয়েছে।
বন দপ্তর সূত্রে খবর, গত পাঁচ থেকে ছয় মাসে পাঁচটি গন্ডার শাবকের জন্ম হয়েছে। সেগুলি এখনও ছোট। তাই শাবকগুলির লিঙ্গ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। জঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় মাঝেমধ্যেই তাদের দেখা মিলছে। নতুন শাবকদের ঘিরে তাই আশার ছবি দেখছে বন দপ্তর। গন্ডারের সংখ্যা ধরে রাখার পাশাপাশি আগামীদিনে শাবকগুলিকে সুস্থভাবে প্রাপ্তবয়স্ক করে তোলাই এখন অন্যতম লক্ষ্য।
তবে আনন্দের পাশেই রয়েছে মৃত্যুর হিসাব। গত প্রায় এক বছরে বিভিন্ন কারণে গরুমারায় প্রায় পাঁচ গন্ডারের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে জলঢাকা নদীর জল হঠাৎ বেড়ে যায়। জলোচ্ছ্বাসের জলে একইসঙ্গে দুটি গন্ডারের মৃত্যু হয়। এছাড়াও প্রাকৃতিক কারণে দুটি গন্ডারের মৃত্যু হয়েছে। নিজেদের মধ্যে লড়াইয়ের জেরেও একটি গন্ডারের মৃত্যু হয়েছে। ফলে নতুন শাবকের জন্মের সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যাও প্রায় সমান হয়েছে। গরুমারায় গন্ডারের মোট সংখ্যা তাই আপাতত একই জায়গায় রয়েছে।
নতুন শাবকদের নিরাপত্তার পাশাপাশি বড় গন্ডারগুলির গতিবিধির উপরও নজর রাখছে বন দপ্তর। কারণ, মাঝেমধ্যেই গরুমারা জঙ্গল থেকে গন্ডার বেরিয়ে লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। ময়নাগুড়ি (Mainaguri) ব্লকের রামশাই এলাকায় এমন ঘটনা তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগে রামশাইয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়া একটি বড় গন্ডারের হানায় এক গ্রামবাসী আহত হন। পরে বনকর্মীরা গন্ডারটিকে নিরাপদে জঙ্গলে ফিরিয়ে দেন। বন দপ্তর সূত্রে খবর, বর্তমানে সেটি জঙ্গলের মধ্যেই রয়েছে।
গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের এডিএফও রাজীব দে জানান, গন্ডারগুলির নিরাপত্তার জন্য জঙ্গলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনও গন্ডার যাতে লোকালয়ের দিকে বেরিয়ে এসে মানুষের সঙ্গে সংঘাতে না জড়ায়, সেজন্য ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে। বড় গন্ডারগুলির পাশাপাশি সদ্য জন্ম নেওয়া শাবকদের উপরও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। কুনকি হাতির পিঠে চেপে বনকর্মীরা জঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছেন।
বন দপ্তরের আশা, সদ্য জন্ম নেওয়া পাঁচটি শাবক সুস্থভাবে বেড়ে উঠলে আগামী গন্ডার শুমারিতে তার প্রতিফলন দেখা যাবে। আপাতত জন্ম ও মৃত্যুর সমীকরণে সংখ্যা ৬১টির আশপাশে থাকলেও নতুন শাবকদের ঘিরেই ভবিষ্যতে গরুমারায় গন্ডারের সংখ্যা বৃদ্ধির আশা দেখছেন বনকর্মীরা।

