উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: কর্ণাটকের রাজনীতিতে এক বড়সড়ো পরিবর্তনের ইঙ্গিত। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী (Karnataka CM) সিদ্দারামাইয়া (Siddaramaiah)। রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে, কারণ বৃহস্পতিবার সকালেই তিনি তাঁর বাসভবনে মন্ত্রীসভার সমস্ত সদস্যদের নিয়ে একটি প্রাতরাশ বৈঠক ডেকেছেন। এরপরই তিনি সাংবাদিক বৈঠক করে নিজের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করতে পারেন বলে খবর।
কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের (DK Shivakumar) সঙ্গে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের (Congress) একের পর এক বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। জানা গিয়েছে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে কংগ্রেস রাহুল গান্ধির নেতৃত্বে যে নতুন ওবিসি (OBC) ভোটব্যাংক গড়ার কৌশল নিয়েছে, তার অন্যতম মুখ হিসেবে সিদ্দারামাইয়াকে জাতীয় স্তরে দেখতে চায় হাইকম্যান্ড। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই তাঁকে রাজ্য রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিল্লির রাজনীতি বা রাজ্যসভায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে খবর।
যদিও কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের চর্চা ছিল, কর্ণাটকের সরকার গঠনের সময় সিদ্দারামাইয়া ও ডিকে শিবকুমারের মধ্যে ক্ষমতার রদবদল সংক্রান্ত কোনও সমঝোতা হয়েছিল কিনা। সিদ্দারামাইয়ার সম্ভাব্য পদত্যাগের পর স্বাভাবিকভাবেই ডিকে শিবকুমারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে, হাইকম্যান্ডের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে কোনও অপসারণ হিসেবে না দেখে বরং সিদ্দারামাইয়ার জন্য ‘জাতীয় স্তরে উত্তরণ’ হিসেবেই প্রচার করা হচ্ছে।
আগামী ৮ জুন রাজ্যসভা নির্বাচনের মনোনয়ন জমার শেষ তারিখ, তাই তার আগেই এই বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে চাইছে কংগ্রেস। বৃহস্পতিবারের সাংবাদিক বৈঠক থেকেই স্পষ্ট হবে, কর্ণাটকের রাজনীতির অন্দরে ক্ষমতার এই সমীকরণ চূড়ান্ত রূপ পেল কিনা। এদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে ও দলীয় অন্তর্কলহ রুখতে কর্ণাটকের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রণদীপ সুরজেওয়ালাও বৃহস্পতিবারই বেঙ্গালুরু পৌঁছাচ্ছেন। এখন দেখার, কর্ণাটকের মসনদে পরিবর্তনের এই চিত্রনাট্য শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়।
