Taapsee Pannu | ‘ফ্ল্যাট স্টমাক’ আসলে মরীচিকা! মেদহীন পেটের অবাস্তব হিড়িক নিয়ে মেয়েদের চোখ খুললেন তাপসী পন্নু

Taapsee Pannu | ‘ফ্ল্যাট স্টমাক’ আসলে মরীচিকা! মেদহীন পেটের অবাস্তব হিড়িক নিয়ে মেয়েদের চোখ খুললেন তাপসী পন্নু

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে ‘জিরো ফিগার’ বা ‘ফ্ল্যাট স্টমাক’-এর অন্ধ দৌড়ে শামিল হওয়া তাঁর স্বভাব নয়। স্পষ্টবক্তা হিসেবে বলিপাড়ায় আলাদা পরিচিতি রয়েছে তাপসী পন্নুর (Taapsee Pannu)। পর্দার মতো বাস্তবেও তিনি গতে বাঁধা সামাজিক ধ্যানধারণার বিরুদ্ধে সওয়াল করতে ভালোবাসেন। এবার নারীদের তথাকথিত ‘নিখুঁত ও নির্মেদ পেট’ পাওয়ার চড়া সুড়সুড়ি এবং অবাস্তব শরীরচর্চার হিড়িক নিয়ে সোচ্চার হলেন অভিনেত্রী।

রবিবার নিজের সমাজমাধ্যমে মহিলাদের শারীরিক গঠন এবং বাণিজ্যিকীকরণের তৈরি করা ‘সৌন্দর্যের মাপকাঠি’ নিয়ে এক দীর্ঘ ও তথ্যসমৃদ্ধ পোস্ট শেয়ার করেন তাপসী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, পেটে সামান্য চর্বি থাকাটা কোনও খামতি নয়, বরং নারীর সুস্থতারই লক্ষণ।

আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া ও বিজ্ঞাপনের চকমকে দুনিয়া দেখে বহু মহিলাই ফ্ল্যাট স্টমাকের প্রতি অতিরিক্ত মাত্রায় মোহগ্রস্ত হয়ে পড়েন। সেই মেদহীন পেট পাওয়ার জন্য চলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিম আর খাওয়া-দাওয়া বন্ধের মতো কঠোর আত্মনিপীড়ন। তাপসী জানান, এই ভুলের মধ্য দিয়ে তিনিও একসময় গিয়েছেন।

অভিনেত্রীর অকপট স্বীকারোক্তি: “ছোটবেলায় আমি বেশ সুস্থ-সবল ছিলাম। কিন্তু একটা বিষয় কিছুতেই মাথায় ঢুকত না— কেন পেটের নিচের অংশের (তলপেট) সামান্য চর্বি কিছুতেই কমে না! ওটা কমানোর জেদে আমি এতটাই শরীরচর্চা শুরু করেছিলাম যে, নিজের শরীরকে ক্ষমতার চেয়ে বেশি চাপ দিতাম।”

তাপসী আরও যোগ করেন, শরীরকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অত্যাচার করলে হিতে বিপরীত হয়। তখন শরীর নিজেকে বাঁচাতে ‘অ্যালার্ট মোড’-এ চলে যায় এবং কর্টিসল হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে জল জমতে শুরু করে (Water Retention)। ফলে পেট কমার বদলে উল্টে ফোলা ভাব আরও বেড়ে যায়।

দীর্ঘদিন নিজের শরীরের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কষ্টের পর তাপসী বুঝতে পারেন, প্রকৃতির নিয়মকে জোর করে বদলানো যায় না। এই বিষয়ে তাঁর চোখ খুলে দিয়েছিলেন তাঁর ব্যক্তিগত পুষ্টিবিদ।

সমাজমাধ্যমে তাপসী লিখেছেন, “অন্য কোনও মেয়ের শরীরের গঠন আর তোমার গঠন কখনও এক হবে না, এটা মেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আমি অনেক দেরিতে এটা বুঝেছি। আমার পুষ্টিবিদ আমাকে বুঝিয়েছিলেন যে, মহিলাদের তলপেটে সামান্য মেদ বা জল জমে থাকাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং জরুরি। কারণ, ঠিক ওই অংশেই নারীদের প্রধান প্রজনন অঙ্গগুলি (Reproductive Organs) থাকে। প্রকৃতির নিয়মেই সেগুলির বাহ্যিক আঘাত থেকে সুরক্ষার জন্য ওইটুকু ফ্যাটের প্রয়োজন রয়েছে।”

নারীদের উদ্দেশ্যে অভিনেত্রীর পরামর্শ, মাসের সব দিন হরমোনের ওঠানামার কারণে শরীর এক রকম থাকে না। কোনও দিন শরীর একটু ভারী বা ফোলা লাগতেই পারে, তা নিয়ে অহেতুক মানসিক অবসাদে ভোগার কোনও কারণ নেই। অবাস্তব ফ্ল্যাট স্টমাকের পেছনে না ছুটে নিজের শরীরের নিজস্ব ছন্দকে ভালোবাসার এবং সুস্থ থাকার পরামর্শই দিয়েছেন এই বলিউড ডিভা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *