Prashanta Barman | প্রশান্ত-আতঙ্কে কাঁপছেন সাক্ষীরা, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্বপন কামিল্যা হত্যা মামলার প্রত্যক্ষদর্শীরা

Prashanta Barman | প্রশান্ত-আতঙ্কে কাঁপছেন সাক্ষীরা, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্বপন কামিল্যা হত্যা মামলার প্রত্যক্ষদর্শীরা

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


শুভঙ্কর চক্রবর্তী

প্রশান্ত বর্মনের (Prashanta Barman) আতঙ্কে কাঁপছেন স্বর্ণ কারিগর স্বপন কামিল্যা (Swapan Kamilya Homicide Case) খুনের মামলার সাক্ষীরা। ভয়ে আর কলকাতায় পা রাখতে চাইছেন না মামলার অভিযোগকারী স্বপনের শ্যালক দেবাশিস কামিল্যা। মামলার একমাত্র জীবিত প্রত্যক্ষদর্শী অশোক কর আতঙ্কে নিউটাউন ছেড়ে পূর্ব মেদিনীপুরের গ্রামের বাড়িতে চলে গিয়েছেন। দত্তাবাদের যে দোকান থেকে স্বপনকে তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে, এখনও খোলেনি সেই দোকান। দোকানের মালিক জানিয়েছেন, প্রশান্ত লোকজন নিয়ে এসে দোকানে তালা মেরে গিয়েছিলেন। ভয়ে আজও সেই তালা খোলার সাহস পাননি তিনি। অন্য সাক্ষীদের কেউ হাত জোড় করে প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন, কারও বক্তব্য, ‘পরিবার নিয়ে বাঁচতে হবে। তাই ওই বিষয়টি ভুলে যেতে চাই।’

স্বপনের শ্যালক এবং মামলার অভিযোগকারী দেবাশিস কামিল্যা অনেকদিন আগেই নিউটাউন ছেড়ে পাকাপাকিভাবে ওডিশায় চলে গিয়েছেন। তাঁর কথা, ‘পুলিশের জন্যই সবার আতঙ্ক বাড়ছে। এতকিছুর পরও পুলিশ প্রশান্তকে গ্রেপ্তার না করার জন্যই সাক্ষীরা ভয় পেতে শুরু করেছেন। এভাবে তাঁদের অনেকেরই মনোবল ভেঙে যাবে। আর প্রতিবাদের সাহস পাবেন না। আমি নিজেও প্রবল আতঙ্কে ভুগছি। যে কোনওদিন আমারও কিছু হয়ে যেতে পারে। তাই ভয়ে কলকাতা যাচ্ছি না। পুলিশ আমাদের আর ভরসা দিতে পারছে না।’ নিউটাউনে প্রশান্তর বাড়িতে কুকুর দেখভাল করতেন অশোক। তাঁর আসল বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের হেড়িয়াতে। অশোক জানিয়েছেন, বাড়িতে তুলে এনে যখন স্বপনের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছিল, তখন তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। তার জন্য প্রশান্ত তাঁকেও মারধর করেন। ঘটনার পরে নানাভাবে তাঁকে ভয় দেখানো হয়েছে বলেও জানান। আতঙ্কিত অশোক তারপরই নিউটাউন ছাড়েন। বর্তমানে গ্রামের বাড়িতে টোটো চালিয়ে কোনওরকমে সংসার চালান তিনি। ফোনে কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন, ‘ওঁর (প্রশান্ত বর্মনের) অনেক ক্ষমতা। তাই তো পুলিশও ওঁকে ধরছে না। আর আমরা তো গরিব মানুষ। আমি তো সব দেখেছি। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নানা কথা বলেছে আমাকে। তাই তো ভয়ে দেশের বাড়ি চলে এসেছি। শরীরও ভালো নয়। কোনওদিন টোটো নিয়ে বের হই, কোনওদিন তাও পারি না। ওই বিডিও অনেক কিছুই করতে পারেন।’

দত্তাবাদের (Crime Information) রাস্তার পাশেই বাড়ি গোবিন্দ বাগের। বাড়ির সামনে ছোট্ট আসবাবের দোকান। তার পাশেই আর একটি দোকান তালাবন্ধ। ওপরে এখনও ঝুলছে ‘বাসন্তী জুয়েলার্স’ লেখা বোর্ড। মাসিক ২৫০০ টাকায় গোবিন্দর কাছে এই দোকানটিই ভাড়া নিয়েছিলেন স্বপন। ডাকাডাকি করতেই বাইরে এলেন গোবিন্দর স্ত্রী প্রতিমা। দোকান কি পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছে? প্রতিমা বললেন, ‘যেদিন ওই বিডিও লোকজন নিয়ে এসে স্বপনকে দোকান থেকে তুলে নিয়ে গেল, সেদিন ওরাই দোকানে তালা লাগিয়ে দিয়েছিল। তারপর যে এমন ঘটনা হবে কল্পনাও করতে পারিনি। তখন থেকেই দোকান ওইভাবেই আছে।’ তালা খুলছেন না কেন? ‘আমরা তালা ভেঙে দোকান খুললে আবার কী থেকে কী হয়ে যায়, সেই ভয়েই তালা ভাঙার সাহসই পাচ্ছি না। পুলিশকেও বলেছি। কিন্তু সুরাহা হয়নি। প্রশান্তর যে পাওয়ার, আমরা তালা খুললে যদি আমাদের কিছু করে দেয়, তাই ভয় পাচ্ছি।’ গোবিন্দ, প্রতিমা এবং তাঁদের মেয়ে রিনিকা জানা— তিনজনই স্বপন হত্যা মামলার সাক্ষী। বাগ পরিবার সংবাদমাধ্যমে প্রশান্তর সব খবর দেখেছেন। প্রশান্তকে ধরার পরেও পুলিশ ছেড়ে দেওয়ার পর থেকেই তাঁদের আতঙ্ক অনেকটাই বেড়েছে। প্রতিমার শেষ কথাতেই তা স্পষ্ট। তাঁর বক্তব্য, ‘কেন যে প্রশান্তকে ধরছে না তা ভেবেই পাচ্ছি না। ওকে না ধরায় আমাদের ভয় আরও বেড়ে গিয়েছে।’

স্বপন হত্যাকাণ্ডের মামলায় মোট উনত্রিশজন সাক্ষীর নাম চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে নিহতের স্ত্রী মমতা কামিল্যা থেকে শুরু করে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক এবং একাধিক পুলিশ আধিকারিকও আছেন। আইনজীবীরা বলছেন, সাক্ষীর তালিকা এত বড় যে সবাইকে ভয়, লোভ বা অন্য কোনওভাবে ম্যানেজ করা যে কোনও আসামির পক্ষেই খুব কঠিন। তবে তাতে ভয় কমছে না সাক্ষীদের অনেকেরই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মামলার এক সাক্ষী হাত জোড় করে বললেন, ‘যেদিন থেকে শুনেছি ওই মামলায় আমাকে সাক্ষী বানানো হয়েছে, সেদিন থেকে ভালো করে ঘুম হচ্ছে না। বাড়ির লোকেরাও আতঙ্কে আছে। ওরা যেভাবে দিনেরবেলা একজনকে তুলে নিয়ে গিয়ে খুন করেছে, তা ভুলি কীভাবে। প্রশান্তকে সেদিন ধরেও ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে ভয়ে সন্ধ্যা হলেই বাড়ি থেকে ঘনঘন ফোন আসতে থাকে। এসবের জন্য কিছুদিন আগে আমার সুগার ধরা পড়েছে। আর পারছি না। দয়া করে আর আমাকে এসবের মধ্যে জড়াবেন না।’ স্বপন খুনের মামলার আর এক সাক্ষী অণিমা হালদার ভয়ে এ বিষয়ে কথা বলতেই চাইলেন না। যেন ওইসব নিয়ে কিছু জানতে না চাই, বারবার অনুরোধ করলেন।

পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুর থানার দিলমাধিয়া গ্রামে স্বপন কামিল্যার বাড়ি। অভিযোগ, নীলবাতির গাড়ি চড়ে দলবল নিয়ে সেখানেও গিয়েছিলেন প্রশান্ত। গিয়ে স্বপনের পরিবার ও গ্রামবাসীদের অনেককেই হুমকিও দিয়ে এসেছিলেন। মামলায় যাঁদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, তাঁদের কেউ কেউ সে কথা স্বীকারও করেছেন বলেই চার্জশিটে উল্লেখ করেছেন তদন্তকারী গোয়েন্দা আধিকারিক। দিলমাধিয়ায় স্বপনের প্রতিবেশী শেখ আসাউদ্দিন মামলার অন্যতম সাক্ষী। তাঁর কথায়, ‘যা সব শুনছি ও দেখছি, তাতে প্রশান্ত যা খুশি তাই করতে পারে। আমরা কলকাতা থেকে অনেক দূরে থাকি। তবুও ভয় হচ্ছে। তবে পুলিশ বা আদালত ডাকলে যা দেখেছি তাই বলব। পিছিয়ে যাব না।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *