উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক পালাবদলে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ২০ জন সাংসদের ‘এনসিপিআই’ (NCPI)-তে যোগ দেওয়ার পর থেকেই জাতীয় রাজনীতিতে ঝড় উঠেছে। এই পটপরিবর্তনের মাঝেই শুক্রবার সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রায় ১৫ মিনিট একান্তে বৈঠক করলেন এনসিপিআই সাংসদ শতাব্দী রায় (Satabdi Roy meets PM Modi)। অন্যদিকে, এদিনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে পৃথকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া। দুই তারকা সাংসদের এই হাই-প্রোফাইল দিল্লি সফর এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে একের পর এক বৈঠক বাংলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনার সৃষ্টি করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর কী বললেন শতাব্দী?
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় পনেরো মিনিটের দীর্ঘ বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন শতাব্দী রায়। তাঁর স্পষ্ট কথা, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা মানেই বিজেপিতে ভিড়ে যাওয়া নয়।
শতাব্দী রায় বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কে কী বলছেন বা চাইছেন, তা নিয়ে কথা হয়েছে। পাশাপাশি আমার সংসদীয় এলাকা নিয়ে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ও বড় পরিকল্পনা ছিল, সেগুলির কথাও প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি। সমস্ত কিছু চূড়ান্ত হলে তা অবশ্যই প্রকাশ্যে আনব।” এর আগে এনডিএ-র বৈঠকে যোগ দেওয়ার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সংসদের আসন্ন অধিবেশনে কী কী বিল আসছে এবং বিভিন্ন মন্ত্রকের কাজের পরিধি নিয়ে শাসক শিবিরের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যার অঙ্গ হিসেবেই তাঁরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক জুনের:
অন্যদিকে, শুক্রবারই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া। বৈঠক শেষ হওয়ার পরই নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি শেয়ার করে বড় বার্তা দিয়েছেন তিনি। মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রকে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও সার্বিক বিকাশের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একগুচ্ছ রূপরেখা ও প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেছেন জুন।
সব মিলিয়ে, তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে আসা এক দল তারকা সাংসদের এই ধারাবাহিক দিল্লি সফর, এনসিপিআই-এর ব্যানারে তৎপরতা এবং দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই ধরনের একান্ত বৈঠক যে বর্তমান রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ ও রাজনৈতিক উত্তাপের জন্ম দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।

