সাইকেল সারাতেন বাবা, মৃত্যুশোক-দারিদ্র্য সামলেই গ্লাসগোয় ‘সোনার মেয়ে’ অস্মিতা!

সাইকেল সারাতেন বাবা, মৃত্যুশোক-দারিদ্র্য সামলেই গ্লাসগোয় ‘সোনার মেয়ে’ অস্মিতা!

স্বাস্থ্য/HEALTH
Spread the love


অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস আর ইতিহাস গড়ার এক অনন্য কাহিনির নাম অস্মিতা দে। একথা বললে অত্যুক্তি হয় না মোটেও। ভারতের ক্রীড়াজগতের ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত শুধুমাত্র পদক জয়ের জন্যই অবিস্মরণীয় হয়ে থাকে, তা নয়। বরং সেই পদকজয় নতুন যুগ হিসেবেও সূচিত হয়। গ্লাসগোয় ২০২৭ কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদম বিজয়ী ত্রিপুরায় জুডোকা অস্মিতা দে সেই নবযুগেরই আরেক নাম! যিনি নিজের অদম্য পরিশ্রম, কঠোর অনুশীলন এবং অসীম আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে ভারতের জুডোকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন। ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ের মাধ্যমে তিনি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য অর্জন করেননি, বরং ভারতের জুডো ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন।

জুডো এমন একটি খেলা, যেখানে শুধু শারীরিক শক্তি নয়, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, ভারসাম্য, কৌশল এবং মানসিক দৃঢ়তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অস্মিতা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই গুণগুলি আয়ত্ত্বে আনেন। তিনি মহিলাদের ৪৮ কেজি ওজন বিভাগে প্রতিযোগিতা শুরু করেন এবং একের পর এক রাজ্য ও জাতীয় প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করতে থাকেন।

আরও পড়ুন:

অস্মিতা দে’র জন্ম দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার বেলোনিয়ার এক সাধারণ পরিবারে। বাবা গণেশ দে ছিলেন সাধারণ সাইকেল মেকানিক। অত্যন্ত দারিদ্রের সঙ্গেই ছোটবেলা কেটেছে অস্মিতার। সম্বল বলতে শুধু তিনটি গুণ – প্রাণবন্ত, পরিশ্রমী আর খেলাধুলোর প্রতি প্রেম। পরিবারের উৎসাহ ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় তিনি জুডোর সঙ্গে পরিচিত হন। শুরুতে জুডো তাঁর কাছে সাধারণ খেলাই ছিল। কিন্তু খুব দ্রুতই তাঁর দক্ষতা প্রশিক্ষকদের নজরে আসে এবং অস্মিতাকে বৃহত্তর ক্ষেত্রের জন্য তাঁরা গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। সীমিত সুযোগ-সুবিধা, উন্নত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অভাব এবং আর্থিক চ্যালেঞ্জ — এসব বাধা সত্ত্বেও অস্মিতা কখনও নিজের স্বপ্ন থেকে সরে আসেননি। প্রতিদিনের কঠোর অনুশীলন, নিয়মানুবর্তিতা এবং জয়ের প্রবল ইচ্ছাই তাঁকে ধীরে ধীরে জাতীয় পর্যায়ে তুলে নিয়ে আসে।

কমনওয়েলথ গেমসে জুডোয় প্রথম সোনাজয়ী অস্মিতা দে, শুক্রবার গ্লাসগোয়

বাবা গণেশ দে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মারা যান। সেই শোক সামলেই নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন অস্মিতা। পিতৃবিয়োগের বছর না ঘুরতেই গ্লাসগোয় কমনওয়েলথের আসর থেকে সোনা ছিনিয়ে আনলেন ২২ বছরের মেয়ে।

জুডো এমন একটি খেলা, যেখানে শুধু শারীরিক শক্তি নয়, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, ভারসাম্য, কৌশল এবং মানসিক দৃঢ়তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অস্মিতা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই গুণগুলি আয়ত্ত্বে আনেন। তিনি মহিলাদের ৪৮ কেজি ওজন বিভাগে প্রতিযোগিতা শুরু করেন এবং একের পর এক রাজ্য ও জাতীয় প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করতে থাকেন। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সের ফলে ভারতের জাতীয় জুডো দলে সুযোগ পান। এরপর শুরু হয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার নতুন যাত্রা। অস্মিতা দে বিভিন্ন জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে একাধিক পদক জয় করেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তিনি ধারাবাহিকভাবে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে এশিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদক, জুনিয়র এশিয়া কাপে স্বর্ণপদক, এশিয়ান ওপেনে রৌপ্য পদক এবং একাধিক আন্তর্জাতিক জুডো প্রতিযোগিতায় ভারতের প্রতিনিধিত্ব।

জাতীয় পর্যায়ে ধারাবাহিক সাফল্যের মাধ্যমে দেশের অন্যতম সেরা ৪৮ কেজি বিভাগের জুডোকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া অস্মিতা। এসব সাফল্য তাঁকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং বিশ্বমানের খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন ত্রিপুরাকন্যা। বাবা গণেশ দে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মারা যান। সেই শোক সামলেই নিজের লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন অস্মিতা। পিতৃবিয়োগের বছর না ঘুরতেই গ্লাসগোয় কমনওয়েলথের আসর থেকে সোনা ছিনিয়ে আনলেন ২২ বছরের মেয়ে। এ যে বাবারই আশীর্বাদ!

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *