উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: যন্তরমন্তরে আন্দোলনরত তরুণ প্রজন্মের পাশে দাঁড়ালেন মাস্টার ব্লাস্টার শচীন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar)। বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে সবাইকে এমন একটি ‘সংস্কৃতি’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন যেখানে শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া হয়। নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে নতুন দিল্লির যন্তর মন্তরে যখন দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদ আন্দোলন চলছে, ঠিক সেই সময়েই শচীনের এই মন্তব্য সামনে এলো।
ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই সাবেক তারকা ক্রিকেটার লেখেন, ‘শিক্ষার্থীরা যখন তাদের কঠোর পরিশ্রমের সঠিক মূল্য না পেয়ে হতাশ বোধ করছে, তখন এ জাতীয় পরিস্থিতি যেন ভবিষ্যতে আর কখনও না ঘটে তা নিশ্চিত করতে সবার একযোগে কাজ করা উচিত। ’
এই আলোচনায় নিজের বাবার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন শচীন। বলেন, ‘আমার বাবা একজন অধ্যাপক ছিলেন। তিনি বহু তরুণ শিক্ষার্থীর মেন্টর এবং নির্দেশক ছিলেন। জীবনের শুরুর দিনগুলোতেই তিনি আমার মনে একটি শিক্ষা গেঁথে দিয়েছিলেন—’ব্যর্থতা মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু প্রতারণা কখনোই নয়। শর্টকাটের পথ কখনও বেছে নেবে না।’ সমাজের প্রবীণ হিসেবে সাংস্কৃতিক এই দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদেরই। যে সমাজ যোগ্যতার চেয়ে ফলাফলের উপর বেশি জোর দেয়, তারা মেধার চেয়ে শর্টকাটের পথই বেশি খুঁজবে। আজ ছাত্রছাত্রীরা যখন তাদের পরিশ্রমে সুফল না পেয়ে হতাশ হয়, তখন তা পুরোপুরি স্বাভাবিক। যৌথভাবে আমাদের সবাইকে এমন পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে তাদের আর কখনো এমন অভিজ্ঞতা না হয়।”
শচীন আরও লেখেন, ‘তরুণ ভারত সবসময় স্বপ্ন ও শক্তিতে ভরপুর। তারাই আমাদের সাফল্যের চালিকাশক্তি। একটি সমাজ হিসেবে অভিভাবক, শিক্ষক, বন্ধু, আত্মীয়স্বজন, স্কুল এবং প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ—সবারই অনেক বড় দায়িত্ব এবং ভিন্ন ভূমিকা রয়েছে যেন আমাদের তরুণ সমাজ সবসময় উৎসাহিত থাকে।’ শিক্ষার্থীদের জন্য সঠিক সমাধানের আশা প্রকাশ করে শচীন একটি সততা-ভিত্তিক সংস্কৃতির ওপর জোর দিয়ে লেখেন, ‘আমাদের এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে যেখানে কঠোর পরিশ্রম পুরস্কৃত হয়, সততাকে উৎসাহিত করা হয় এবং যোগ্যতার জয় হয়। আমি নিশ্চিত যে আমরা সবাই এমন পথ খুঁজে পাব যা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎকে শক্তিশালী করবে এবং তাদের আকাঙ্ক্ষাকে রক্ষা করবে। জয় হিন্দ!’
উল্লেখ্য, নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তরমন্তরে আন্দোলন চালাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তারা পরীক্ষার সার্বিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন। এই আন্দোলনে দেশজুড়ে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষ অংশ নিয়েছেন।
শচীনের আগে অলিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী অভিনব বিন্দ্রাও ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পক্ষে মত প্রকাশ করেছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় বিন্দ্রা লিখেছিলেন, ‘আমি নিজেকে কখনোই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মনে করি না। তবে আমি বিশ্বাস করি যে, আমরা রাজনৈতিকভাবে যেখানেই অবস্থান করি না কেন, কিছু বিষয় আমাদের সবার সাথে সম্পর্কিত—যার অন্যতম হলো শিক্ষা। একটি দেশের মূল পরিচয় কেবল তার অর্থনীতি বা অর্জনে নয়, বরং দেশের তরুণদের জন্য সে কেমন সুযোগ তৈরি করছে তার ওপর নির্ভর করে। এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা যা আত্মবিশ্বাস জোগায়, মেধাকে পুরস্কৃত করে এবং কৌতুহল জোগায়, তা-ই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি।’

