উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ রাজধানী দিল্লিতে তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে ছাত্র বিক্ষোভ। ‘কক্রোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বে চলা এই আন্দোলনের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা দিল্লি। পরিস্থিতি সামাল দিতে যন্তর মন্তরের (Jantar Mantar) ১.৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে মধ্যরাত পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনের বাইরে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (BNSS) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে, যা বড় জমায়েত নিষিদ্ধ করে।
এই আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর ব্যবসা-বাণিজ্যেও। নতুন দিল্লি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (NDTA) নির্দেশিকা মেনে কনট প্লেসের সমস্ত দোকান ও রেস্তোরাঁ সন্ধ্যা সাড়ে ছটার পরেই বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এনডিটিএ-র এই নির্দেশিকা এক্স (X)-এ শেয়ার করে আপ (AAP) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রশ্ন তোলেন যে, সরকার কি আজ রাতে জন্তর মন্তরে কোনো দমনপীড়নের পরিকল্পনা করছে? এর জবাবে দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, “আজ রাতে চলমান বিক্ষোভে ক্র্যাকডাউনের কোনো পরিকল্পনা পুলিশের নেই। অনুগ্রহ করে কোনো বিভ্রান্তিকর বা যাচাই না করা তথ্য ছড়াবেন না।”
এদিকে, বিরোধী দলনেতার বাসভবনে বৈঠকের পর ইন্ডিয়া জোটের সাংসদ ও নেতারা এদিন গান্ধী স্মৃতি স্মারক পরিদর্শন করেন।
উল্লেখ্য, সিজেপি এবং কেন্দ্রের মধ্যে আলোচনা এখনও স্থবির হয়ে রয়েছে, সেই আবহেই এই আন্দোলন আজ ৩৪ দিনে পদার্পণ করেছে। অপরদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তারা চারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনও সাড়া পায়নি।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র শাহ জানান, সরকারের দরজা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সবসময় খোলা রয়েছে এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি জেপি নাড্ডার বাসভবন বা কার্যালয়ে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, আলোচনা হতে হবে “যন্তর মন্তরের কাছে কোনো নিরপেক্ষ স্থানে।”
উল্লেখ্য, নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি-র নেতৃত্বে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও তরুণ সংসদ ভবন অভিযানের চেষ্টা করার পরই আলোচনার এই প্রস্তাব সামনে আসে। গত সোমবার সিজেপি মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রঙ্কা জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করেন। ওইদিনই বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে, যার জেরে বহু মানুষ আহত হন।

