মালদা ও রায়গঞ্জ: শনিবার থেকে মালদা জেলার ১৫টি ব্লকে প্রায় ৪৫টি কেন্দ্রে এসআইআর (SIR) সংক্রান্ত শুনানি শুরু হচ্ছে। প্রশাসনের একটি সূত্র জানাচ্ছে, তথ্যে গরমিলের কারণে জেলার প্রায় ৬২ হাজার ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। আর এই ৬২ হাজার ভোটারের মধ্যে রয়েছে রাজ্যের মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের (Sabina Yasmin) বড় মেয়ের নামও। শুক্রবার এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক তর্জা। যদিও সাবিনা ইয়াসমিন বলেছেন, ‘বিষয়টি আমিও শুনেছি। তবে এখনও হাতে নোটিশ পাইনি।’
রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন ও সেচ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের বাড়ি কালিয়াচকের চাঁদপুরে। মন্ত্রীর স্বামী মহম্মদ মেহবুব আলম পেশায় নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায়ী। তাঁদের দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে ফিজা বিন্তে আলম আমেরিকার এক প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। এসআইআর-এর ফর্ম তিনিও পূরণ করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তারপরেও ফিজা বিন্তে আলমের নামে শুনানির নোটিশ ইস্যু করা হয়েছে। সমস্যা কোথায়? প্রশাসনের একটি সূত্র জানাচ্ছে, পূরণ করা ফর্মে বাবার নাম নিয়ে কোনও সমস্যা হয়েছে। তাই তাঁকে শুনানির নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। আর তাতেই সাবিনা ইয়াসমিনের কটাক্ষ, ‘এসআইআরের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে।’
যদিও প্রশাসনের একাংশের দাবি, গণনাপত্র বিলির সময় অনেকেই নিজেরা অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করেছেন। তাতে অনেক সময় ভুল হয়ে থাকতে পারে। প্রশাসনের এক কর্তা জানান, মন্ত্রীর মেয়ের ভুলের ব্যাপারটি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।
সাবিনার কথায়, ‘শুধু আমার মেয়েই নয়, ঠিকঠাক নথি দেওয়ার পরেও অনেক সাধারণ ভোটারকে শুনানিতে নোটিশ দিয়ে ডাকা হচ্ছে। এভাবে মানুষকে হয়রান করে রাজ্যের বিধানসভা ভোটে বিজেপি লাভ করতে পারবে না।’ আর বিজেপি নেতা অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ‘ভূতুড়ে ভোটার বাদ পড়ার আতঙ্কে ভুগছেন তৃণমূলের নেতা, মন্ত্রীরা।’
অন্যদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টায় জেলা প্রশাসনিক ভবনে জেলা শাসকের উপস্থিতিতে একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয়েছিল। ওই বৈঠক থেকে বের হয়ে এসে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপির প্রতিনিধি নীলাঞ্জন দাস। তাঁর অভিযোগ, ‘জেলা শাসক শুনানির দিনক্ষণ জানালেও বিস্তারিত কিছু বলতে চাইছেন না। আমাদের প্রথমে বলা হয়েছিল শুনানির সময় সিসিটিভি ক্যামেরা থাকবে। কিন্তু এদিন তিনি আমাদের জানিয়েছেন, এই নিয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।’
অন্যদিকে, আগামী ২৯ ডিসেম্বর থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ব্লকের সাতটি জায়গায় এসআইআর-এর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। রায়গঞ্জ ব্লকের ১৪টি অঞ্চল ও পুরসভার ২৭টি ওয়ার্ড মিলিয়ে শুনানির জন্য ডাক পেয়েছেন ১১ হাজার ৬৫১ জন। শুক্রবার সাংবাদিকদের একথা জানিয়েছেন রায়গঞ্জ বিডিও কামালউদ্দিন আহমেদ। শুনানি শুরু হওয়ার আগে শুক্রবার বিডিও’র চেম্বারে সর্বদলীয় বৈঠক হয়।
