শাসকের সাময়িক স্বস্তি

শাসকের সাময়িক স্বস্তি

শিক্ষা
Spread the love


আদালতের জোড়া নির্দেশে স্বস্তি শাসকের। রাজ্য ও জিটিএ’র শাসকদলের আপাতত দুশ্চিন্তা ঘুচল। তাছাড়া জিটিএ’র সিদ্ধান্তে পর্যটকদের যাতায়াতের জটিলতা কাটল। এতে যেমন অচলাবস্থার অবসান হল, তেমনই ক্ষোভ থেকে রেহাই মিলল শাসকদলের। পাহাড়ে নতুন করে অচলাবস্থা তৈরির আশঙ্কায় অসন্তোষ বাড়ছিল রাজ্য সরকার ও জিটিএ’র ওপর। শাসকদল হিসাবে তৃণমূল ও ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক পার্টি এতে বেকায়দায় পড়েছিল।

তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে পাহাড়ে অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। প্রথমত, হাইকোর্ট ৩১৩ জন শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল করে দেওয়ায় পাহাড়ে মাধ্যামিক স্তরের পঠনপাঠন বিঘ্নিত হতে পারত। ওই শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের স্কুল ধর্মঘটের ডাক দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, আবগারি দপ্তর দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁ গ্লেনারিজের পানশালা বন্ধ করে দেওয়ায় বড়দিন ও নববর্ষের মরশুমে পর্যটকদের বিরক্তির কারণ হয়ে উঠেছিল। যার প্রভাব পর্যটনের ওপর পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

আরেকটি অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল পাহাড় ও সমতলের গাড়িচালকদের বিরোধে। সমতলের গাড়ি পাহাড়ে স্বাভাবিক যাতায়াতে বাধা পাচ্ছিল। আবার পাহাড়ের গাড়িচালকরা সমতলে এসে বিড়ম্বনায় পড়ছিলেন। পর্যটনের মরশুমে এতে পাহাড়ের অর্থনীতি ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়েছিল। এই তিন বিড়ম্বনাতেই আপাতত ইতি পড়েছে। প্রথম দুটি সমস্যার সমাধান হয়েছে আদালতের সৌজন্যে। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ অন্তত আপাতত শিক্ষকদের চাকরি বাতিলের ভয়ংকর সমস্যা থেকে মুক্তি দিয়েছে।

ওই বেঞ্চের রায়ে ১২ সপ্তাহ চাকরি বাতিলের নির্দেশটি কার্যকর হবে না। শিক্ষকদের ধর্মঘট আগেই স্থগিত হয়েছিল জিটিএ’র পরামর্শে। এখন হাইকোর্টের সিদ্ধান্তে শিক্ষকরা স্বস্তি পাওয়ায় পাহাড়ের স্কুলগুলিতে পঠনপাঠন বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকল না। কয়েক মাসের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা থাকায় যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তাতে জল ফেলল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়। গ্লেনারিজের পানশালাও আপাতত খোলা রাখতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

ওই রায়ে পানশালাটি খোলা রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত যত না রেস্তোরাঁ মালিকের জন্য স্বস্তি, তার চেয়েও বেশি উচ্ছ্বাসের পর্যটকদের জন্য। দার্জিলিং বেড়াতে গেলে গ্লেনারিজে ঢুঁ মারা পর্যটকদের কাছে প্রায় রীতি হয়ে আছে। তাঁদের অনেকে পছন্দের পানশালাটিতেও সময় কাটান। আকর্ষণের কেন্দ্র সেই পানশালায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা পর্যটন ব্যবসার ওপর আঘাতের শামিল বলে মনে করা হচ্ছিল।

আদালতের নির্দেশে দুই বিড়ম্বনায় তীব্র সমালোচিত হচ্ছিল রাজ্য প্রশাসন ও জিটিএ। দুই সিদ্ধান্তে মুখ পুড়েছিল তৃণমূল ও ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক পার্টির। পাহাড়-সমতলের পর্যটকবাহী গাড়ি চলাচলকে কেন্দ্র করে বিরোধে সেই সমালোচনা আরও বাড়ে। পাহাড় ও রাজ্যের প্রশাসন ভোটের অঙ্কে চুপ করে আছে বলে অভিযোগ ওঠে। তাছাড়া বেড়ানোর মরশুমে গাড়ি চলাচলে এমন সমস্যায় পর্যটকদের হয়রানি বাড়ে। পর্যটন ব্যবসায় ক্ষতির আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ হন পাহাড়বাসী। তাঁদের সারা বছরের রোজগারের অনেকটা এই সময়ে হয়ে থাকে।

শেষপর্যন্ত অবশ্য জিটিএ’র হস্তক্ষেপে সেই বিরোধ মিটিছে। জিটিএ’র পরামর্শে পাহাড়ের চালকরা সমতলের গাড়ি চলাচলে আর বাধা না দিতে সম্মত হয়েছেন। পাহাড়ের গাড়িও এখন সমতলে স্বাভাবিক যাতায়াত করবে। এতে পর্যটন ব্যবসার বাধা কেটেছে। জিটিএ এই সমস্যা মেটাতে সক্রিয় হওয়ায় ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক পার্টির ওপর ক্ষোভ প্রশমিত হয়েছে। সমতলেও বিরোধ মিটে যাওয়ায় রাজ্য প্রশাসন ও তৃণমূল অনেকটা স্বস্তি পেয়েছে।

আদালত ও জিটিএ এই তিন পদক্ষেপ না করলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে পাহাড় ও সমতল- দুই জায়গাতেই ক্ষোভের মুখে পড়ত শাসকদল। ভোটে তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকত। যদিও শিক্ষকদের চাকরি বাতিলের নির্দেশ খারিজ হলেও জট এখনও কাটেনি। ১২ সপ্তাহ পর স্থগিতাদেশ উঠে গেলে ফের বিড়ম্বনায় পড়বেন পাহাড়ের শিক্ষকরা। সেক্ষেত্রে আবার চাপে পড়বে শাসকদল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *