উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) প্রতীক কার দখলে থাকবে, সেই জটিলতার ফয়সালা করতে শনিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের মুখোমুখি হলো দলের দুই শিবির। নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে প্রথমে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির (Ritabrata Banerjee EC assembly) এবং পরে কালীঘাটপন্থী প্রতিনিধিদল কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে বসে। বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে তৃণমূল নেতৃত্ব ও সুপ্রিমো মমতাকে তীব্র আক্রমণ করেন ঋতব্রত। তাঁর স্পষ্ট দাবি, কোনো একক ব্যক্তির মর্জি বা পরিবারতন্ত্রের ওপর ভিত্তি করে গণতান্ত্রিক দল চলতে পারে না।
দিল্লির দ্বারকায় অবস্থিত ‘ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডেমোক্র্যাসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট’ ভবনে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট ধরে চলা বৈঠকে ঋতব্রতদের পক্ষ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি পেশ করা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বলেন, এতদিন দলে কোনো গণতান্ত্রিক রীতিনীতি বা সংবিধানের তোয়াক্কা করা হতো না। ‘যা বলবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), সেটাই আইন’— এমন মনোভাবের তীব্র সমালোচনা করে তিনি সাফ জানান, তৃণমূল কোনো পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি নয়, এটি লক্ষ লক্ষ কর্মী-সমর্থকদের দল। এমনকি তিনি হাস্যচ্ছলে বলেন যে তিনি আইনস্টাইনের রিলেটিভিটি তত্ত্বে বিশ্বাস রাখেন, কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক আরাধনায় নয়।
আগামী ৬ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। হাতে সময় খুবই কম থাকায় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আর্জি জানিয়েছে ঋতব্রত শিবির। অন্যদিকে, কালীঘাট শিবিরের অবস্থানও অনড়। তাঁদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তৈরি দল এবং তাঁর মুখ দেখেই প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন, তাই তাঁকে অস্বীকার করার প্রশ্নই ওঠে না। দুই শিবিরের এই অনমনীয় অবস্থানের মাঝে দাঁড়িয়ে কমিশন কার পক্ষে রায় দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

