উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মাথার উপর ছাদ হারাচ্ছেন হাজারো মানুষ, চোখের সামনে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ঘরবাড়ি। আর সেই উচ্ছেদ অভিযানের তদারকিতে এসে সরকারি টাকায় চা, জিলিপি আর লেবু-আদার শরবত খাচ্ছেন আধিকারিকরা! গুজরাটের রাজকোটে একটি Mega demolition drive বা মেগা উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে এবার এমনই এক অমানবিক ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এল। গত ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি Rajkot Municipal Company (RMC)-এর উদ্যোগে জঙ্গলেশ্বর এবং আজি নদী সংলগ্ন এলাকায় এই বিশাল অভিযান চালানো হয়। ১৫ মিটার চওড়া TP Highway সম্প্রসারণের জন্য প্রায় ১,৪০০টি unlawful buildings বা বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়। কিন্তু এই অভিযানের সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা খরচের বহর প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে প্রবল রাজনৈতিক তরজা।
উচ্ছেদ অভিযানে নিযুক্ত আধিকারিক, পুলিশ ও কর্মীদের খাওয়া-দাওয়ার জন্য যে বিল জমা পড়েছে, তা দেখে চোখ কপালে উঠেছে খোদ শাসকদলের নেতাদেরও। ২১,৩১০ কাপ চা-বিস্কুট, ৫০ প্লেট গাঁঠিয়া-জিলিপি ও পোঁহা এবং ৩৬০টি লাঞ্চ প্লেটের জন্য খরচ দেখানো হয়েছে ৬,৩০,৯৪৬ টাকা। ২১ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১৩,৩০০টি বিশেষ লাঞ্চ প্যাকেট, মশলা ঘোল এবং ৪,০০০ বোতল লেবু-আদার শরবতের বিল এসেছে ২০,৬৮,৫০০ টাকা। তৃষ্ণা মেটাতে শুধুমাত্র মিনারেল ওয়াটারের পিছনে খরচ হয়েছে ১২,৪০,০২৮ টাকা! (৫ টাকা দামের জলের বোতল ধরলে, অঙ্কের হিসেবে প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার বোতল জল কেনা হয়েছে)। আধিকারিকদের বসার জন্য মণ্ডপ করতে খরচ হয়েছে আরও ৬,৭০,৬৭৮ টাকা। সব মিলিয়ে এই উচ্ছেদ অভিযানের আনুষঙ্গিক খরচ গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬.৩১ লক্ষ টাকায়!
এই খবর সামনে আসতেই তীব্র বিতর্কের মুখে পড়ে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের Standing Committee আপাতত ২৭.২০ লক্ষ টাকার খাওয়ার বিলটি অনুমোদন করতে অস্বীকার করেছে। এত বিপুল অঙ্কের খরচের যুক্তিসঙ্গত কারণ দর্শানোর জন্য আধিকারিকদের কাছে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে। আধিকারিকদের সাফাই, এই অভিযানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রায় ৪,৮০০ কর্মী ও পুলিশ যুক্ত ছিলেন। ডিউটি ছেড়ে যাতে কাউকে বাইরে যেতে না হয়, সেই জন্যই এই catering preparations করা হয়েছিল। সময়ের অভাবে সাধারণ টেন্ডার প্রক্রিয়া বা কোটেশন ডাকার সুযোগ হয়নি বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। এই ঘটনাকে সরাসরি corruption বা দুর্নীতি বলে তোপ দেগেছে বিরোধী দল কংগ্রেস। বিরোধীদের অভিযোগ, যখন গরিব মানুষগুলো নিজেদের সাজানো সংসার ভাঙতে দেখে কাঁদছিলেন, তখন সরকারি আধিকারিকরা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এলাহি ভোজের আনন্দে মেতেছিলেন। এটি শুধুমাত্র দুর্নীতির ইঙ্গিতই নয়, চূড়ান্ত অমানবিকতারও নিদর্শন। কংগ্রেসের দাবি, কিছুদিন পর মানুষের স্মৃতি থেকে এই ঘটনা মুছে গেলে চুপিসারে এই বিল পাশ করিয়ে নেওয়া হবে। তাই অবিলম্বে এই ‘ভোজ’-এর বিলের স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে এবং যে আধিকারিকরা এই বিপুল ব্যয়ের অনুমোদন দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। জঙ্গলেশ্বরের এই ঘটনা বুঝিয়ে দিল, উন্নয়নের নামে উচ্ছেদ অভিযান আসলে একাংশের পকেট ভরানোরও হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

