রায়গঞ্জ: বন্ধ অফিসঘরের সিসিটিভি ক্যামেরায় অদ্ভুত নড়াচড়ার দৃশ্য ধরা পড়তেই ছড়িয়ে পড়েছিল ‘ভূত-আতঙ্ক’ (Raiganj ghost rumor)। সমাজমাধ্যমে সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই শুরু হয় নানা জল্পনা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অলৌকিক নয়, বিজ্ঞানের জয় জয়কার! পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের তৎপরতায় পরিষ্কার হয়ে গেল যে, কোনো অশরীরী আত্মা নয়, ক্যামেরার সামনে মাকড়সার জাল দুলতেই তা ‘ভূত’ বলে ভুল হয়েছিল।
রায়গঞ্জের পূর্বাশাপাড়ার একটি বন্ধ অফিসঘরের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে সম্প্রতি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। ভিডিয়োতে একটি রহস্যময় নড়াচড়া দেখতে পেয়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে অনেকে এটিকে অশরীরী আত্মার উপস্থিতি বলে দাবি করতে শুরু করেন। সামাজিক মাধ্যমে সেই ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় ভূত দেখার জন্য এলাকার এক প্রাক্তন কাউন্সিলারের বাড়ির গেটে গিয়ে হাজির হন পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের একদল সদস্য।
সংগঠনের জেলা সভাপতি অনিরুদ্ধ সিনহা, সহ-সভাপতি তথা প্রাক্তন অধ্যক্ষ পীযুষ কুমার দাস, সূর্য নারায়ণ চক্রবর্তী, দীপঙ্কর চক্রবর্তী এবং বিশ্বদীপ চক্রবর্তী প্রমুখ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বাড়ির লোকজন উপস্থিত থাকায় এবং ঘরের বড় দরজা বন্ধ থাকায় তাঁরা বাইরে থেকেই ঘরটি পর্যবেক্ষণ করেন এবং বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন।
তদন্ত করে বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্যরা দেখতে পান, দীর্ঘদিন ধরে ঘরটি বন্ধ থাকায় সিসিটিভি ক্যামেরার লেন্স বা তার আশেপাশের অংশে মাকড়সার জাল জমে গিয়েছিল। মৃদু বাতাসে সেই জাল দুলছিল এবং ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল ঘরের মেঝের দিকে থাকায় সেই নড়াচড়াই ক্যামেরায় রহস্যময় কিছু একটা নড়ছে বলে ধরা পড়েছিল। পরে বাড়ির সদস্যরাও স্বীকার করেন যে ঘরে প্রচুর ঝুল ও মাকড়সার জাল জমেছিল এবং এর পেছনে কোনো অলৌকিক বা ভূতুড়ে ব্যাপার নেই।
বিজ্ঞান মঞ্চের সহ-সভাপতি পীযুষ কুমার দাস জানিয়েছেন, কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস দূর করতেই তাঁরা এই ঘটনার তদন্তে নেমেছিলেন। ভিডিয়োতে যে নড়াচড়া দেখা গিয়েছিল, তা আদতে সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে থাকা দোদুল্যমান মাকড়সার জাল ছাড়া আর কিছুই নয়। বিজ্ঞান মঞ্চের এই হস্তক্ষেপে এলাকার মানুষের অন্ধবিশ্বাস দূর হয়েছে এবং সকলে স্বস্তি পেয়েছেন।

