রায়গঞ্জ: শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে বিশেষভাবে সক্ষম এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। সে জন্ম থেকেই হাঁটাচলা করতে অক্ষম। তাই মায়ের কোলে করে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছে মেয়েটি। জানা গিয়েছে, ওই পরীক্ষার্থীর নাম পুস্পাঞ্জলি দাস(১৭)। বাড়ি ডালখোলা কলেজ মোড়ে। খুবই দরিদ্র পরিবার। বাবা পরিযায়ী শ্রমিক। সে হাঁটাচলা করা তো দূরের কথা, ঠিক মতো বসতে ও কথা বলতে পারে না পুষ্পাঞ্জলি। এত শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কাছেও সে হার মানতে নারাজ।
ডালখোলা গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী পুষ্পাঞ্জলি। এবার মাধ্যমিকে তার সিট পড়েছে ডালখোলা হাই স্কুলে। ইতিমধ্যেই তার বাংলা ও ইংরেজি পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে। মায়ের কোলে করে সে পরীক্ষা দিতে আসছে। তার জন্য পরীক্ষাকেন্দ্রে আলাদা ব্যবস্থা করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তার এই অদম্য ইচ্ছেকে কুর্ণিশ জানিয়েছেন ডালখোলা গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সুদেষ্ণা মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘খুবই দরিদ্র পরিবারের মেয়ে পুষ্পাঞ্জলি। একে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও আর্থিক অনটন থাকা সত্ত্বেও সে পড়াশোনা চালিয়ে আসছে। আমাদের স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি থেকে পড়ছে। ওর মা প্রতিদিন ওকে স্কুলে দিয়ে যেত, আবার সময়মতো নিয়ে যেত। তার অদম্য ইচ্ছা থাকায় আশাকরি সাফল্য আসবেই।’
ডালখোলা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুকুমার বিশ্বাস জানান, ‘মেয়েটির জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মা প্রতিদিন পৌঁছে দিচ্ছেন এবং আবার নিয়ে যাচ্ছেন। আমরা প্রত্যেকেই নজর রাখছি।’
এই প্রসঙ্গে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী পুষ্পাঞ্জলি জানিয়েছে, তার প্রথম দুটো পরীক্ষাই ভালো হয়েছে। তার লক্ষ্য পড়াশোনা শেষ করে একটা সরকারি চাকরি পাওয়া। বাবা বলদেব দাস এবং মা স্বপ্না দাস মেয়ের সাফল্যের ব্যাপারে আশাবাদী। স্বপ্নাদেবী জানায়, ‘খুব কষ্ট করে পড়াশোনা করছে এতদিন, আমাদের বিশ্বাস ও একদিন অনেক বড় হবে।’
