প্রায় কুড়ি হাজার ফিট উচ্চতা থেকে সঠিক টার্গেটে কোনও ভারী বস্তু ফেলতে হাওয়ার গতিবেগ এবং বস্তুটির ওজনের সঙ্গে সময়ের সম্পর্ক সমানুপাতিক হবে কিনা, তা অঙ্ক বইয়ের সমস্যা হিসেবে সমাধান করতে বেশিক্ষণ সময় লাগার কথা নয়। কিন্তু সেই ভারী বস্তুটি যদি একটা আস্ত বোমা হয় এবং তা মিগ ২১ বিমান থেকে নিক্ষেপ করতে হয় দ্রাস সেক্টরের টোলোলিং শৃঙ্গ দখল করা পাকিস্তানি সেনার ওপর, সেখানে শুধু অঙ্কের ওপর ভরসা করা যায় কি? কারণ হাওয়ার গতিবেগের তারতম্য, পাইলটের সেকেন্ডের ভগ্নাংশের চ্যুতি বা জিপিএস সিস্টেমের ত্রুটি, এর মধ্যে যেকোনও একটি কারণ যথেষ্ট মিশন ফেল করার জন্য। তবু কার্গিলের যুদ্ধে ভারত জয়ী হয়েছিল। আর সেই জয় শুধুমাত্র ইন্ডিয়ান আর্মির হাত ধরে আসেনি। ভারতীয় বায়ুসেনা বা ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্সের অসামান্য দক্ষতা ও সাহস ছাড়া ভারতের গর্বের ইতিহাসে সেদিন নতুন অধ্যায় যুক্ত হত না। ১৯৯৯ সালের মে মাসে শুরু হয়েছিল কার্গিলের যুদ্ধ। ভারত পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া সিমলা চুক্তি অনুযায়ী লাইন অফ কন্ট্রোল লঙ্ঘন করা যাবে না। কিন্তু চুক্তি তো বিশ্বাসের প্রতীক। সেই বিশ্বাসের মর্যাদা প্রতিবেশীরা কবে দিয়েছে? প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে অন্ধকারে রেখে সে সময়ের পাকিস্তান আর্মি জেনারেল পারভেজ মুশারফের নির্দেশে লাইন অফ কন্ট্রোল টপকে মুজাহিদিনের বেশে দ্রাস সেক্টরে কয়েকটি ভারতীয় শৃঙ্গ দখল করে পাকিস্তানি সেনা। ষোলো হাজার ফিট উচ্চতায় বসে পাকিস্তানি সৈন্য খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিতে থাকে ভারতীয় আর্মিকে। সেই সময় এগিয়ে আসে ভারতীয় বায়ুসেনা। মিগ ২১ বিমান নিয়ে তারা কুড়ি হাজার ফিট উঁচু থেকে ছবি তুলে আনে অনুপ্রবেশকারীদের। প্রজেক্টের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন সফেদ সাগর’। একই নামে নেটফ্লিক্সে মুক্তি পেয়েছে অনি (অনিরুদ্ধ) সেনের ছয় পর্বের ওয়েব সিরিজ।
এখনও পর্যন্ত নেটফ্লিক্সের সবচেয়ে বেশি বাজেটের সিরিজ এটি। ২৩০ কোটি টাকা খরচ করে বানানো হয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার বীরত্বের কাহিনি, যাকে এক শব্দে বর্ণনা করলে অনবদ্য বলতে হয়।
আরও পড়ুন:

অভিনয়ে রয়েছেন সিদ্ধার্থ, জিমি শেরগিল, অভয় বর্মা, মিহির আহুজা, বিনয় পাঠক, আদিল হুসেন, অঞ্জন শ্রীবাস্তব, মনু ঋষি চাড্ডা, অনন্ত মহাদেবন, দিয়া মির্জা, প্রাযক্তা কোলি, অমৃতা বাগচী প্রমুখ। দু’হাজার সাল থেকে শুরু করে আজ অবধি কার্গিল যুদ্ধ নিয়ে হিন্দি ভাষায় যত ছবি হয়েছে সবই ভারতীয় আর্মির শৌর্য ও বীরত্বকে সামনে রেখে। কিন্তু কার্গিল যুদ্ধে পনেরো হাজার ফিটের বেশি উচ্চতার শৃঙ্গ দখল করে পাকিস্তানি সেনা ভারতীয় আর্মিকে ধারেকাছে আসতে দিচ্ছিল না। এই অবস্থায় ভারতীয় বায়ুসেনার ১৭ নং স্কোয়াড্রন গোল্ডেন অ্যারো যেভাবে নিজেদের ক্ষমতার বাইরে গিয়ে আর্মিকে সাহায্য করে তা চিরকাল এ দেশের সেনার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সেই কাহিনীকে চমৎকার দক্ষতায় পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন সিরিজের কলাকুশলীরা। এখনও পর্যন্ত নেটফ্লিক্সের সবচেয়ে বেশি বাজেটের সিরিজ এটি। ২৩০ কোটি টাকা খরচ করে বানানো হয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার বীরত্বের কাহিনি, যাকে এক শব্দে বর্ণনা করলে অনবদ্য বলতে হয়। মেঘের ভেতর দিয়ে যুদ্ধ বিমানের আনাগোনা, শত্রুপক্ষের গতিবিধির ছবি তোলার উদ্দেশ্যে প্রত্যেকটি অভিযান (sortie), বোমা নিক্ষেপের মুহূর্ত সবটাই যথাযথভাবে দর্শকের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি চরিত্রায়ন ও তাদের অভিনয় দর্শককে ফেলে আসা কার্গিল যুদ্ধের সময় নিয়ে যাবে। চিত্রনাট্য, সম্পাদনা, চিত্রগ্রহণ, প্রায় সমস্ত বিভাগে প্রশংসার দাবি রাখে বাঙালি পরিচালকের তৈরি এই সিরিজ।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
