রায়গঞ্জ: উত্তর দিনাজপুর (Uttar Dinajpur) জেলাজুড়ে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় ঘরে ঘরে সর্দি, কাশি, জ্বর ও পেটের সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। কখনো বৃষ্টিতে ঠান্ডা আমেজ আবার কখনো দুপুরে তীব্র দাবদাহে তাপমাত্রার এই ওঠানামার জেরে বয়স্ক থেকে শুরু করে শিশুরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। জেলার সদর হাসপাতাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্লক হাসপাতালের আউটডোরগুলিতে রোগীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সোমবার তীব্র গরমের জেরে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (Raiganj Authorities Medical Faculty and Hospital) শিশু বিভাগে জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও পেট খারাপের মতো উপসর্গ নিয়ে ১২ জন শিশু এবং পুরুষ ও মহিলা মেডিসিন বিভাগে ২০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
আবহাওয়া পরিবর্তনের এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসকরা অবশ্য উদ্বেগের কোনো কারণ নেই বলে অভয়বাণী দিয়েছেন। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকান্ত বিশ্বাস জানিয়েছেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণেই এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে এবং চিকিৎসায় অনেকে সুস্থও হয়ে উঠছেন। রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যক্ষ প্রিয়ঙ্কর রায় ও মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক অরবিন্দ রায় জানান, তীব্র গরমে সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও পেট খারাপের সমস্যা নিয়ে বহু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
হেমতাবাদের বাসিন্দা সাকিনা বেগম জানান, তাঁর পাঁচ বছরের সন্তান দুদিন ধরে জ্বরে ভোগার পর সোমবার ভোররাতে প্রবল জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একইভাবে ইটাহারের বাসিন্দা শেফালী ঘোষ জানান, টানা সাতদিন গরমের জেরে তাঁর স্বামীর জ্বর, ও শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রায়গঞ্জ মেডিকেলে আনা হয়েছে।
প্রতি বছরই এই গরমের সময়ে জ্বর ও সর্দি-কাশির প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে সঠিক সময়ে চিকিৎসা করালে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব। তা সত্ত্বেও যেভাবে ঘরে ঘরে তা ছড়িয়ে পড়ছে এবং হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

