বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ: অবশেষে পুলিশের জালে রায়গঞ্জের (Raiganj) ত্রাস হিসেবে পরিচিত কুখ্যাত দুষ্কৃতী (Prison) মহাদেব দাস (Mahadev Das)। চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও নদীতে চুবিয়ে খুন করার অভিযোগে মঙ্গলবার ভোরে শক্তিনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এদিন তাকে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে বিচারক তিন দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
সম্প্রতি রায়গঞ্জের লোহা কালীবাড়ি এলাকায় চুরির অপবাদ দিয়ে রবি পাসমান নামে এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে মারধর ও কুলিক নদীতে চুবিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে। রক্ষা পায়নি তাঁর ১১ বছরের নাবালিকা কন্যাও; তাকেও কাঠের বাটাম দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়। মৃতের শাশুড়ি শান্তি চৌধুরীর অভিযোগ, রবি পাসমানের বসতভিটে দখল করার উদ্দেশ্যেই স্থানীয় একটি ক্লাবের দুষ্কৃতীরা এই চক্রান্ত করেছিল। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ মূল অভিযুক্ত মহাদেবকে চিহ্নিত করে।
মহাদেব দাসের অপরাধের তালিকা দীর্ঘ ও শিউরে ওঠার মতো। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী:
- ২০০৯ ও ২০১৩: রায়গঞ্জের দুই সাংবাদিককে খুনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১৩ সালে উত্তর দিনাজপুর প্রেসক্লাবের তৎকালীন সভাপতি বাবু বর্ধন খুনেও সে ছিল মূল অভিযুক্ত।
- ২০০৮: এক ব্যবসায়ীর খুনের ঘটনায় নাম জড়ায় মহাদেবের।
- ২০০৫ ও ২০০৭: অত্যাধুনিক অস্ত্র রাখা এবং ফল ব্যবসায়ীকে হুমকির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিল সে।
- ২০১২: শহরে একটি বাড়িতে ঢুকে অলংকার লুঠের অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, শাসকদলের ছত্রছায়ায় থাকার কারণেই এতদিন পুলিশ তাকে ছুঁতে সাহস পায়নি। তবে এবার আর শেষ রক্ষা হল না। রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ডাঃ সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ বলেন, “খুনের অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
এই প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সরকারি আইনজীবী নীলাদ্রি সরকার বলেন, “ধৃতের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। বিচারক তদন্তের স্বার্থে তিন দিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।”
