রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়েজ হস্টেলের সরস্বতী পূজা এবার আক্ষরিক অর্থেই অন্যরকম। প্রথা ভেঙে কুমোরটুলির বদলে নিজেদের হস্টেলের আবাসিক, বিসিএ (BCA) তৃতীয় সেমিস্টারের ছাত্র দ্বীপ সরকারের তৈরি প্রতিমাতেই আরাধনা হবে বিদ্যাদেবীর। পড়াশোনার ফাঁকে এক ছাত্রের এই শৈল্পিক প্রতিভাকে কুর্নিশ জানাচ্ছে গোটা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর।
শিল্পীর রক্তে টান
দ্বীপের বাবা প্রদীপ সরকার দক্ষিণ দিনাজপুরের ত্রিমোহিনীর একজন পেশাদার প্রতিমা শিল্পী। ছোটবেলা থেকেই বাবার কাছে মূর্তি গড়ার হাতেখড়ি দ্বীপের। যদিও কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনার চাপে মাঝখানে সেই চর্চা কিছুটা থমকে গিয়েছিল, তবে হস্টেলের আবাসিকদের উৎসাহে ফের তুলি ধরেছে সে। দ্বীপ জানায়, “হস্টেল সুপার তন্ময় চৌধুরী এবং সিনিয়র দাদা আরিজ আখতারের উৎসাহে ফের কাজ শুরু করি। সাত দিন ধরে কাঠ, খড় আর মাটি দিয়ে তিলতিল করে প্রতিমাটি তৈরি করেছি।”
আবাসিকদের আনন্দ ও হস্টেল সুপারের স্বীকৃতি
প্রতি বছর বয়েজ এবং গার্লস হস্টেল যৌথভাবে পূজা করলেও এবার থেকে বয়েজ হস্টেল আলাদাভাবে পূজার আয়োজন করছে। হস্টেল সুপার অধ্যাপক তন্ময় চৌধুরী জানান:“দ্বীপের সৃজনশীলতাকে সম্মান জানাতেই আমরা ওর ওপর ভরসা রেখেছি। ছাত্ররা যখন নিজেরাই এমন প্রতিভা তুলে ধরে, তখন আমাদের গর্ব হয়। আগামীতে হস্টেলের বাউন্ডারিতেও মনীষীদের ছবি ও বাণী দিয়ে সাজানোর পরিকল্পনা আছে।”
সরস্বতী পূজার বিশেষ প্রস্তুতি
হস্টেলের আবাসিক আরিজ আখতারের মতে, এবার পূজা নিয়ে উৎসাহ তুঙ্গে। সবাই নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে পূজার আয়োজন করেছে। প্রতিমা গড়ার পাশাপাশি চলছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি এবং মেনুতে থাকছে ঐতিহ্যের ‘খিচুড়ি’। দ্বীপের তৈরি প্রতিমা এখন ডাকের সাজ এবং অলঙ্কারে সেজে ওঠার অপেক্ষায়।
এক নজরে দ্বীপের প্রতিমা গড়া:
• উপকরণ: কাঠ, খড়, চটের বস্তা ও মাটি।
• সময়: মাত্র ৭ দিনের প্রস্তুতি।
• সজ্জা: ট্র্যাডিশনাল ডাকের সাজ ও মাটির গয়না।
কম্পিউটার কোডিং-এর ছাত্র দ্বীপ প্রমাণ করে দিল, প্রযুক্তি আর শিল্পকলা একই সঙ্গে এগিয়ে চলতে পারে।
