রায়গঞ্জ: স্কুলে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পার্কে জন্মদিনের পার্টি এবং মদ্যপ অবস্থায় ফিরে আসার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল রায়গঞ্জে (Raiganj)। নবম শ্রেণির পাঁচ ছাত্রীর এই কাণ্ড ঘিরে এলাকায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা গাড়ি আটক করে নাবালক প্রেমিকদের গণধোলাই দেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরে পুলিশ মুচলেকা নিয়ে ছাত্রীদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দিলেও গাড়িটিকে আটক করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকালে নবম শ্রেণির পাঁচ বান্ধবী স্কুলের (Faculty) ইউনিফর্ম পরে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু স্কুলে না গিয়ে তারা স্কুল সংলগ্ন জঙ্গলে গিয়ে ইউনিফর্ম বদলে সাধারণ পোশাক পরে। এরপর ইটাহার থেকে চার হাজার টাকায় ভাড়া করা একটি গাড়িতে চড়ে পাঁচ বন্ধু সহ তারা রায়গঞ্জ শহরের কলেজপাড়া এলাকার একটি পার্কে যায়। সেখানে কেক কাটা ও মদ্যপান চলে বলে অভিযোগ।
এদিকে স্কুলে ছাত্রীরা না পৌঁছানোয় এবং এক স্থানীয় বাসিন্দা তাদের গাড়ি চড়ে যেতে দেখে ফেলায় বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। স্কুলের শিক্ষক ও স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পৌঁছায় অভিভাবকদের কাছে।
বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ ওই ভাড়া গাড়িটি ছাত্রীদের (College students) নিয়ে স্কুলের সামনে ফিরতেই ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা গাড়িটি ঘিরে ফেলেন এবং ভেতরে থাকা নাবালক ছেলেদের মারধর শুরু করেন। গাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টাও চালানো হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে রায়গঞ্জ থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নাবালক-নাবালিকা সহ গাড়িটিকে থানায় নিয়ে যায়।
গাড়ির চালক মকবুল হোসেন জানান, ইটাহার থেকে চার হাজার টাকায় যুবকরা গাড়িটি ভাড়া করেছিল। ছাত্রীরা গাড়ির ভেতরেই মদ্যপান করছিল এবং পার্ক ঘুরে ফেরার পথেই গ্রামবাসীর ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাদের। রায়গঞ্জ থানার আইসি সন্দীপ চক্রবর্তী জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পাঁচ ছাত্রী ও চার নাবালক ছেলেকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে এবং গাড়িটির মালিক ও চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে অভিভাবকদের মুচলেকায় ছাত্রীদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

