নাগরাকাটা: ডুয়ার্সের ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। নাগরাকাটা ব্লকের আংরাভাসা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের দুই নির্বাচিত সদস্য শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছেন। আপার কলাবাড়ি বস্তী এলাকার জয়ী প্রার্থী গঙ্গা রাই এবং প্রকাশ শর্মার এই দলত্যাগের সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে (Nagrakata panchayat disaster)।
মোট নয়টি আসন বিশিষ্ট আংরাভাসা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে এতদিন পর্যন্ত তৃণমূলের দখলে ছিল পাঁচটি আসন। এছাড়া একজন বিজেপি এবং তিনজন সিপিআইএম সদস্য এই পঞ্চায়েতে প্রতিনিধিত্ব করছিলেন। তবে গঙ্গা ও প্রকাশের পদত্যাগের পর স্থানীয় এই বোর্ডে তৃণমূলের সংখ্যা কমে দাঁড়াল মাত্র তিনটিতে। দলবদলকারী দুই নেতাই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁরা আপাতত কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন না এবং নির্দল হিসেবেই সাধারণ মানুষের উন্নয়নে পঞ্চায়েতের কাজ চালিয়ে যাবেন।
দল ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রকাশ শর্মা অভিযোগ করেছেন যে, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই স্থানীয় অঞ্চল স্তর থেকে শুরু করে জেলা নেতৃত্ব পর্যন্ত কেউই তাঁদের কোনো রকম সহযোগিতা করেননি এবং দীর্ঘকাল ধরে তাঁদের উপেক্ষা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পঞ্চায়েত বোর্ড গঠনের ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ দলকে সমর্থন করার প্রশ্ন উঠলে তাঁরা সেই মুহূর্তের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিচার করে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই নেতার দলত্যাগের জেরে আংরাভাসা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেল। এর আগে সংলগ্ন আংরাভাসা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী প্রধান শান্তি ছেত্রীর বিরুদ্ধে বিজেপির আনা অনাস্থা প্রস্তাব সফলভাবে পাস হয়েছিল এবং সেখানে নতুন প্রধান নির্বাচনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আংরাভাসা ১ নম্বর পঞ্চায়েতের নিয়ন্ত্রণ যে বিরোধী গেরুয়া শিবিরের হাতের মুঠোয় চলে আসতে চলেছে, তা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে।

