Rachna Banerjee | ‘রাম-শ্যাম-যদুকে লোগো ধরিয়ে দিলে হুগলি আসনটা তৃণমূল পেত না’, তৃণমূলকে ধুয়ে দিলেন রচনা

Rachna Banerjee | ‘রাম-শ্যাম-যদুকে লোগো ধরিয়ে দিলে হুগলি আসনটা তৃণমূল পেত না’, তৃণমূলকে ধুয়ে দিলেন রচনা

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : টলিউড থেকে রাজনীতি— সেলিব্রিটিদের দলবদল বাংলার রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। কিন্তু দল ছাড়ার পর পুরনো দলের সুপ্রিমোকে এমন চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণের ঘটনা কার্যত নজিরবিহীন। যে ‘দিদি নম্বর ১’- (Didi No 1)এর মঞ্চে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে রুটি বেলেছিলেন, সেই মঞ্চের সঞ্চালিকা তথা হুগলির বর্তমান সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Hooghly MP Rachna Banerjee) সুর এখন ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে সদ্য NCPI-তে যোগ দেওয়া রচনা এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন কালীঘাটের দিকে। তাঁর স্পষ্ট দাবি, হুগলি লোকসভা কেন্দ্রে তাঁর নিজের তারকা খ্যাতির জোরেই জেতা সম্ভব হয়েছে।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের অন্দরের সেই বহুচর্চিত মিথ ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, যেখানে বলা হয় ‘বাংলায় দিদির মুখ আর জোড়াফুল লোগো থাকলেই যে কেউ জিতে যেতে পারে’। এই দাবি নস্যাৎ করে রচনা বলেন, “সবাই বলছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ আর তৃণমূলের লোগো ছিল বলে আমরা জিতেছি। উনি অবশ্যই মুখ, কিন্তু রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় না থাকলে হুগলি জেলা তৃণমূলের হাতে আসত না।”

বিজেপির লকেট চট্টোপাধ্যায়কে হারাতে তৃণমূলের যে একজন হেভিওয়েট গ্ল্যামারাস মুখের প্রয়োজন ছিল, সে কথা স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দিয়েছেন রচনা (Movie star politics in Bengal)। সরাসরি তৃণমূল নেত্রীকে নিশানা করে তিনি বলেন, “রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কি আপনি ব্যবহার করেননি? ফুটপাথ বা গড়িয়াহাট থেকে তো কোনও সাধারণ মেয়েকে তুলে এনে হুগলিতে দাঁড় করাননি! আপনার রচনাকেই দরকার ছিল, আমার সেলিব্রিটি স্ট্যাটাসটাকে কাজে লাগানোর প্রয়োজন ছিল। কোনও রাম-শ্যাম-যদুকে লোগো ধরিয়ে দিলে হুগলি আসনটা তৃণমূল পেত না।”

ভোটের আগে হুগলিতে দাঁড়িয়ে ‘শিল্পের ধোঁয়া’ নিয়ে মন্তব্য করে প্রবল ট্রোলের শিকার হয়েছিলেন রচনা। তবে এখন তাঁর গলায় অন্য সুর। কয়লা, বালি ও মাটি পাচার সহ তৃণমূলের বিরুদ্ধে ওঠা ভুরি ভুরি দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে রচনা এখন নিজেকে সম্পূর্ণ দূরত্বে রাখছেন। তাঁর দাবি, এই দলের অন্দরে এত দুর্নীতি আর কেলেঙ্কারি চলছে, তা যদি তিনি আগে জানতেন, তবে কখনোই ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখাতেন না।

রচনার এই মন্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই চুপ বসে নেই তৃণমূল শিবির। সাংসদ মহুয়া মৈত্র থেকে শুরু করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়— কালীঘাটপন্থী নেতারা আগেই রচনার সমালোচনা করেছিলেন। তবে রচনার এই সরাসরি আক্রমণের পর আসরে নামেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। কুণাল ঘোষ তীব্র ভাষায় রচনাকে আক্রমণ করে বলেন, “এই ধরনের এলিমেন্টদের দল সাংসদ করেছে, এটাই আক্ষেপের। ওকে তো দিদি নম্বর ওয়ান থেকেই বাদ দেওয়া হয়েছে, তাই ওর মাথার ঠিক নেই। নিজের জনপ্রিয়তার ওপর যদি এতটাই আত্মবিশ্বাস আর দম থাকে, তবে সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে নতুন করে লড়ে দেখাক!”



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *