তৃণমূল আমলে দখলদারির মতো গুরুতর অভিযোগের কার্যত পাহাড় জমছে! যত সময় যাচ্ছে, ততই এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে চলে আসছে। যদিও নবগঠিত বিজেপি সরকার এসব অভিযোগের দ্রুত সমাধানে উদ্যোগী। আর তাতেই আরও প্রকট হচ্ছে, দলের নামে সাধারণ মানুষজনকে কীভাবে নাকাল করেছিলেন তৃণমূল নেতারা। এবার উত্তরবঙ্গের এক সিআরপিএফ জওয়ান দখলীকৃত জমি উদ্ধারের জন্য পর্যটন মন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষের দ্বারস্থ হলেন। রবিবার ‘সরাসরি শংকর’ শিবিরে গিয়ে নিজের সমস্যার কথা তুলে ধরেন তিনি। জানান, ২০১৪ সাল থেকে জমিটি দখলমুক্ত করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু পুলিশের উদাসীনতায় সমাধান হয়নি। সব শুনে শংকর ঘোষ পুলিশের মাধ্যমেই সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেন।
ফাঁসিদেওয়ার বাসিন্দা টুটুল মজুমদার সিআরপিএফ জওয়ান, কাশ্মীরে কর্তব্যরত। বাড়ির কাছাকাছি ১৪ ডেসিমেল জমি রয়েছে তাঁর। সেই জমি এলাকার দুই তৃণমূল নেতা মহম্মদ গোলাপউদ্দিন ও সাগর রায় মিলে জবরদখল করে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ। জওয়ানের অভিযোগ, জমি দখলের বিরুদ্ধে বিডিও, পুলিশ সর্বস্তরে অভিযোগ জানিয়েছিলেন সেই ২০১৪ সাল থেকে। কিন্তু পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি। উলটে তৃণমূল নেতারা নাকি তাঁর পরিচয় নিয়ে কটাক্ষ করতেন। ‘রাষ্ট্রের গুন্ডা’ বলতেন। এবার রাজ্যে পালাবদলের পর তিনি দ্বারস্থ হয়েছেন পর্যটন মন্ত্রীর। নিজের বিধানসভা এলাকার যাবতীয় কাজকর্মের জন্য সদ্যই মন্ত্রী শংকর ঘোষ
‘সরাসরি শংকর’ নামে একটি শিবির চালু করেছেন। রবিবার সেখানে গিয়েই নিজের জমি সমস্যার কথা জানান সিআরপিএফ জওয়ান টুটুল মজুমদার। এবার তিনি আশাবাদী যে সুরাহা হবেই।
যদি ‘সরাসরি শংকর’ করতে গিয়ে কার্যত নাজেহাল হয়ে পড়ছেন মন্ত্রী শংকর ঘোষ। তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র ছাড়াও আশপাশের বহু মানুষ গিয়ে তাঁর কাছেই অভিযোগ জানাচ্ছেন। সবটাই যে তাঁর নাগালে নেই, আমজনতাকে তা বুঝিয়ে উঠতে পারছেন না শংকরবাবু। তাঁর সিদ্ধান্ত, এবার থেকে থানা সংলগ্ন এলাকায় এই শিবির করবেন। যাতে যে কোনও অভিযোগ পেলে সেখান থেকে সরাসরি পুলিশের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া যেতে পারে। কারণ, বেশিরভাগ সমস্যাই পুলিশের এক্তিয়ারের মধ্যে। এতদিন তৃণমূলের হয়ে পক্ষপাতমূলক ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে। সেই কারণে এত সমস্যার সমাধান অধরা থেকেছে, দাবি শংকর ঘোষের।
সর্বশেষ খবর
