পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: আসন্ন শীতের মরশুমে খুলে যাচ্ছে নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যানের রাচেলা ভিউপয়েন্ট (Rachela viewpoint)। দার্জিলিংয়ের (Darjeeling) টাইগার হিলের (Tiger Hill) মতো কালিম্পং জেলার নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যানের রাচেলা ভিউপয়েন্ট থেকে পর্যটকেরা কাঞ্চনজঙ্ঘা সহ স্লিপিং বুদ্ধ দেখার সুযোগ পেতে চলেছেন। জঙ্গলে পর্যটকদের ভ্রমণ ও ট্রেকিংয়ের জন্য এন্ট্রি ফি পুনরায় চালু হওয়ায় জলপাইগুড়ির গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগ রাচেলা ভিউপয়েন্ট পর্যটকদের জন্য নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে খুলে দিতে পারে বলে সূত্রের খবর।
গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের এডিএফও রাজীব দে বলেন, ‘টাইগার হিল থেকে যেমন সূর্যোদয় দেখা যায়, মনোরম কাঞ্চনজঙ্ঘা শৃঙ্গ চাক্ষুষ করা যায়, তেমনই রাচেলা পয়েন্ট থেকেও সূর্যোদয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা রেঞ্জ দেখা যায়। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে লাভা, রাচেলা ভিউপয়েন্টে বরফ পড়ে। তখন হাড়কাঁপুনি ঠান্ডায় পর্যটকদের ট্রেকিং করতে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হবে।’
নেওড়ার পাহাড়ি এলাকায় প্রায় ১০ হাজার ফুট উচ্চতায় রাচেলা পিক ভিউপয়েন্ট। দুই বছর আগে সেখানে ওয়াচটাওয়ার তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল পর্যটকদের জন্য। কিন্তু দেড় বছর আগে আলিপুরদুয়ার সফরে এসে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জঙ্গল ভ্রমণে পর্যটকদের এন্ট্রি ফি, গাড়ির ট্যাক্স মকুব করে দিয়েছিলেন। ফলে বিনা খরচে পর্যটকদের ভিড় এড়াতে রাচেলা ভিউপয়েন্ট ট্রেকিংয়ের পরিকল্পনা বন্ধ রেখেছিল গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগ। বন্ধ রাখা হয়েছিল ওয়াচটাওয়ার তৈরি। তবে কংক্রিটের পিলারের কাজ শেষ হয়েছিল। নভেম্বরের শুরুতেই পিলারের উপর তক্তা ও টিনের শেড দিয়ে ওয়াচটাওয়ার তৈরি করা হবে। তারপর রাচেলা ভিউপয়েন্ট খুলে দেওয়া হবে বলে এডিএফও জানিয়েছেন।
কিন্তু কীভাবে যাওয়া যাবে রাচেলা ভিউপয়েন্ট? লাভা থেকে নেওড়াভ্যালির প্রবেশ গেটে টিকিট কেটে গাড়িতে করে রাচেলা হিল ও চৌদ্দ ফেরি যাওয়ার ৮ কিমি দূরে যেখানে রাস্তা দুইদিকে চলে যাচ্ছে সেখানে নামতে হবে। এরপর দুই কিমি পথ পাহাড়ি রাস্তায় ট্রেক করে পৌঁছানো যাবে রাচেলা পিকে।
গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগ জানিয়েছে, ভিউপয়েন্ট অবস্থিত জায়গাটি কিছুটা কোর ও বাফার—দুই বনাঞ্চলের মধ্যে রয়েছে। ট্রেকিংয়ের সময় বনকর্মীরা সঙ্গে থাকবেন। থাকবেন বন দপ্তরের প্রশিক্ষিত গাইড। ট্রেক করার সময় জঙ্গলের রাস্তার দুই পাশে প্রচুর গাছ, অন্যান্য ভিউপয়েন্ট রয়েছে। হিমালয়ান ব্ল্যাক বিয়ারের সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির হরিণ ও রেড পান্ডার দেখা মিলতে পারে। রাচেলা ভিউপয়েন্টের কাছেই পশ্চিমবঙ্গ, সিকিম ও ভুটানের ট্রাইজাংশন পয়েন্ট। যেখানে বন্যপ্রাণীদের স্বাভাবিক করিডর রয়েছে। তাই পর্যটকদের মোবাইল বা ক্যামেরার ফ্ল্যাশ জ্বালানো যাবে না। বজায় রাখতে হবে নিস্তব্ধতা। এই ট্রেকিংয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক পর্যটকদের অনুমতি দেওয়া হবে। গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন নির্দেশিকা থাকছে।

